ঢাকা
১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম
এক মন্ত্রণালয়ে একাধিক প্রতিমন্ত্রী—আইনে কি অনুমোদন আছে? মুহুরী নদীর পানি বাড়ছে হু হু করে: বাঁধ ভাঙার আশঙ্কায় নির্ঘুম ফেনীবাসী ​ শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় স্মরণ করা হচ্ছে যমুনা গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা নুরুল ইসলামকে ঢাকার পাশে ঘন ঘন ভূমিকম্প: বড় বিপদের আগাম বার্তা যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটিতে সহ-সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হলেন সিলেটের মোহাম্মদ মাকসুদ আহমেদ তাহিরপুরে হত্যা করে লাশ গুমের ঘটনায় পলাতক আসামি নারায়ণগঞ্জে গ্রেফতার বিদ্যুৎ সাশ্রয় কর্মসূচি: ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান খোলা থাকবে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত বিরল সূর্যগ্রহণে ইউরোপে উন্মাদনা হবিগঞ্জ কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু ওয়াশিংটনের সঙ্গে সমঝোতায় বিশাল ক্ষতিপূরণ পেতে যাচ্ছে ইরান

‘প্রতিটি শিশু শিক্ষার সুযোগ পেলে সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়বে’- জেলা প্রশাসক

ডা: মো: হাফিজুর রহমান (পান্না), রাজশাহী ব্যুরো

বাংলাদেশ মিডিয়া প্রতিবেদক
বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬   ৮ বার পঠিত
‘প্রতিটি শিশু শিক্ষার সুযোগ পেলে সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়বে’- জেলা প্রশাসক

জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের শিশুরা এই সমাজে সুন্দরভাবে বেড়ে উঠুক, তারা শিক্ষার সুযোগ পাক। প্রতিটি শিশুর স্বাস্থ্য ও পুষ্টি নিশ্চিত করার পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় তাদের সক্ষম করে তুলতে হবে। শিশুদের নিরাপদ শৈশব ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে তারাই ভবিষ্যতে একটি সুন্দর সমাজ গড়ে তুলবে।’

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকালে নগরের নানকিং দরবার হলে আয়োজিত রাজশাহী শহর এরিয়া ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামের (এডিপি) অবহিতকরণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম বলেন, একটি দেশের উন্নয়নের অন্যতম মাপকাঠি হলো সেই দেশের শিশু ও নারীরা কতটা নিরাপদ এবং শিশুরা কতটা সুযোগ পাচ্ছে। বাংলাদেশ এ ক্ষেত্রে এখনো পিছিয়ে আছে। প্রতিটি শিশুকে শিক্ষা, পুষ্টি ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার আওতায় আনতে হবে। তিনি বলেন, রাজশাহীতে ওয়ার্ল্ড ভিশনের এ কর্মসূচি আশাব্যঞ্জক। সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলো এগিয়ে এলে শিক্ষা বিস্তার ও মাদক প্রতিরোধের মতো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা আরও গতিশীল হবে। শিশুদের শিক্ষা থেকে পিছিয়ে পড়া ও মাদকের ঝুঁকি কমাতে পরিবার ও সমাজের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে হবে।

ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের কর্মকর্তারা জানান, রাজশাহী শহর এডিপির কার্যক্রমের জন্য ২০২৫ সালে বিভিন্ন পর্যায়ে মূল্যায়ন ও প্রস্তুতিমূলক কাজ শুরু হয়। পর্যায়ক্রমে অংশীজনদের সঙ্গে সভা, শিশু উপদেষ্টা কমিটি গঠন, ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী ও পরিবারের তথ্য সংগ্রহ এবং শিশু ও যুব ফোরাম গঠন করা হয়েছে। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, রাজশাহী সিটি করপোরেশন এলাকার প্রায় ৫ লাখ ৫ হাজার ৩২৪ জন মানুষ এ কর্মসূচির আওতায় আসবে। এর মধ্যে রয়েছে ১ লাখ ৩৩ হাজার ৬৫০টি পরিবার। ইতিমধ্যে প্রায় ২৯ হাজার ৯১৮টি ঝুঁকিপূর্ণ পরিবার শনাক্ত করা হয়েছে। ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের রাজশাহী শহর এডিপির সিনিয়র ম্যানেজার লোটাস চিসিম মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।

তিনি বলেন, কর্মসূচির মূল লক্ষ্য শিশুদের সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিত করা। স্থানীয় মানুষ, সরকারি প্রতিষ্ঠান, সিটি করপোরেশন, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ও অন্যান্য অংশীজনকে সঙ্গে নিয়ে কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। তিনি জানান, কর্মসূচির আওতায় স্বাস্থ্য ও পুষ্টি, পানি-স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধি (ওয়াশ), শিক্ষা, শিশু সুরক্ষা ও অংশগ্রহণ এবং স্পনসরশিপ কার্যক্রম পরিচালিত হবে। শিশুদের টিকাদান ও জন্মনিবন্ধন নিশ্চিত করা, অপুষ্টি কমানো এবং পিছিয়ে পড়া শিশুদের পড়াশোনায় ফিরিয়ে আনতে বিভিন্ন কার্যক্রম নেওয়া হবে। পিছিয়ে পড়া শিশুদের পড়ার দক্ষতা বাড়াতে ‘আনলক লিটারেসি’ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।

প্রাক্‌-প্রাথমিক শিক্ষা ও লার্নিং রুটস সেন্টারের মাধ্যমে শিশুদের শেখার সুযোগ বাড়ানো হবে। একই সঙ্গে বাল্যবিবাহ, শিশুশ্রম ও শিশু সুরক্ষার বিষয়েও কাজ করা হবে। এ ছাড়া দরিদ্র পরিবারের সক্ষমতা বাড়াতে আল্ট্রাপুওর গ্র্যাজুয়েশন মডেল, কমিউনিটি গ্রিনিং ও জীবিকাভিত্তিক বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। কারিগরি ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের জন্য সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে যুক্ত করার পরিকল্পনাও রয়েছে। সভায় সভাপতিত্ব করেন ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের সিনিয়র ডিরেক্টর অপারেশনস চন্দন জেড. গমেজ। তিনি বলেন বলেন, রাজশাহী শহর এডিপির কার্যক্রম ছোট পরিসরে শুরু হয়েছে। ধীরে ধীরে এটি বড় পরিসরে নেওয়া হবে। স্থানীয় মানুষের পরামর্শ ও অংশগ্রহণের ভিত্তিতেই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। তিনি বলেন, ওয়ার্ল্ড ভিশনের কাজের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো কর্মসূচির বিষয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা। এ জন্য তথ্য জানানো, মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা, পরামর্শ নেওয়া এবং তাদের মতামত অনুযায়ী কাজ করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন রাজশাহীর সিভিল সার্জন এসআইএম রাজিউল করিম, ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের ন্যাশনাল ডিরেক্টর ড. জ্যারেড বেরেন্ডস, ইসলামিক ফাউন্ডেশন রাজশাহীর বিভাগীয় পরিচালক এ কে এম মুজাহিদুল ইসলাম, রাজশাহী ক্যাথলিক ধর্মপ্রদেশের ডিডি রেভারেন্ড বিশপ জের্ভাস রোজারিও, ওয়ার্ল্ড ভিশনের নর্দান বাংলাদেশ ক্লাস্টারের ডেপুটি ডিরেক্টর-ফিল্ড অপারেশনস রাজু উইলিয়াম রোজারিওসহ সরকারি কর্মকর্তা, বিভিন্ন এনজিও ও শিশু ফোরামের প্রতিনিধিরা। ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ জানায়, রাজশাহী শহর এডিপির কার্যক্রম ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হয়েছে। মূল কর্মসূচি ২০৩৫ সাল পর্যন্ত চলবে। এরপর দুই বছরের ট্রানজিশন পরিকল্পনার মাধ্যমে ২০৩৭ সালে কর্মসূচির সমাপ্তি হবে।

 

Facebook Comments Box
আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
SuMoTuWeThFrSa