ঢাকা, ১৩ জুলাই: যমুনা গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বিশিষ্ট শিল্পোদ্যোক্তা নুরুল ইসলামের ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ২০২০ সালের এই দিনে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে গভীর শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে তাকে স্মরণ করছে যমুনা গ্রুপের কর্মকর্তা-কর্মচারী, স্বজন ও শুভানুধ্যায়ীরা।
নুরুল ইসলাম ছিলেন দেশের অন্যতম সফল শিল্পোদ্যোক্তা। স্বাধীনতার পর ১৯৭৪ সালে কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য নিয়ে তিনি যমুনা গ্রুপ প্রতিষ্ঠা করেন। তার নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠানটি দেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠীতে পরিণত হয়। তার হাত ধরেই প্রতিষ্ঠিত হয় দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ শপিং কমপ্লেক্স যমুনা ফিউচার পার্ক।
ব্যবসা-বাণিজ্যের পাশাপাশি গণমাধ্যম ও সমাজ উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন নুরুল ইসলাম। তার উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয় দৈনিক যুগান্তর ও যমুনা টেলিভিশন, যা দেশের সংবাদমাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।
সত্যনিষ্ঠা, কর্মীদের প্রতি দায়িত্ববোধ এবং দেশের প্রতি গভীর ভালোবাসা ছিল তার নেতৃত্বের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। তিনি বিশ্বাস করতেন, ব্যবসায়িক সাফল্যের পাশাপাশি মানুষের কল্যাণে অবদান রাখাই একজন উদ্যোক্তার প্রকৃত দায়িত্ব। তার সেই আদর্শ ও কর্মদর্শন আজও যমুনা গ্রুপের পথচলায় অনুপ্রেরণা জোগাচ্ছে।
মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে যমুনা গ্রুপের চেয়ারম্যান সালমা ইসলাম বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশকে এগিয়ে নেওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন। কঠিন অর্থনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতায় তিনি একের পর এক শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলে হাজারো মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করেন।
তিনি বলেন, বর্তমানে যেখানে যমুনা ফিউচার পার্ক অবস্থিত, একসময় সেখানে মানুষের যাতায়াত ছিল সীমিত। ওই এলাকায় শপিং মল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ার সময় নানা সমালোচনা হলেও সময়ের ব্যবধানে সেটি দেশের অন্যতম জনপ্রিয় শপিং কমপ্লেক্সে পরিণত হয়েছে। পাশাপাশি নির্যাতিত ও নিপীড়িত মানুষের কথা তুলে ধরার লক্ষ্যেই তিনি প্রতিষ্ঠা করেন দৈনিক যুগান্তর ও যমুনা টেলিভিশন।
সালমা ইসলাম মরহুম নুরুল ইসলামের রুহের মাগফিরাত কামনা করে দেশবাসীর কাছে তার জন্য দোয়া প্রার্থনা করেন।