
চট্টগ্রামের জোরারগঞ্জ থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে ১ হাজার পিস ইয়াবা ও ১৭০ লিটার দেশীয় তৈরি চোলাইমদসহ মোট ১১ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে ছিনতাই মামলায় ৩ বছরের সাজাপ্রাপ্ত এক পলাতক আসামি এবং বিভিন্ন মামলার একাধিক এজাহারভুক্ত অভিযুক্ত রয়েছেন।
গত বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাত থেকে বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকাল পর্যন্ত জোরারগঞ্জ থানার বিভিন্ন এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। জোরারগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জনাব আব্দুল হালিমের দিকনির্দেশনায় থানার একাধিক চৌকস টিম এই অভিযান পরিচালনা করে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ১৬ সেপ্টেম্বর রাত ১১:৩০ ঘটিকায় করেরহাট ইউনিয়নের ঘেরামারা ফরেস্ট অফিস এলাকায় অভিযান চালায় এএসআই রাসেল খানের নেতৃত্বাধীন একটি দল। সেখানে একটি রেজিস্ট্রেশনবিহীন সিএনজি অটোরিকশায় ৬০ লিটার চোলাইমদ পরিবহনের সময় মোঃ রিয়াজ হোসেন ওরফে হৃদয় (২৬) নামে এক মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তার এক সহযোগী পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
একই রাতে পৌনে ১২টার দিকে বারইয়ারহাট পৌরসভার হানিফ বাস কাউন্টারের সামনে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে অভিযান চালান এসআই মোঃ জিশান আহম্মেদ। এ সময় টেকনাফ থেকে আসা ১ হাজার পিস ইয়াবাসহ মনসুর আলম (৩৩) নামের এক ইয়াবা কারবারিকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়।
অন্যদিকে, ১৭ সেপ্টেম্বর সকাল ৮:১০ ঘটিকায় করেরহাট ইউনিয়নের ছত্তরোয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৮০ লিটার চোলাইমদ ভর্তি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাসহ আবুল কাশেম (৩২) নামের আরেক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেন এসআই মো: আকরামুল হক। এর কিছু সময় পর, সকাল ৮:৩০ ঘটিকায় বারইয়ারহাট পৌরসভার উত্তর সোনাপাহাড় এলাকার মহাসড়কে চেকপোস্ট বসায় পুলিশ। এসআই আব্দুল্লাহ আল মাসুদের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে ‘শান্তি পরিবহন’ নামের একটি যাত্রীবাহী বাস থেকে ৩০ লিটার চোলাইমদসহ বাসের হেলপার মোঃ ওমর ফারুককে (১৯) গ্রেপ্তার করা হয়।
মাদকবিরোধী এই অভিযানের পাশাপাশি অন্যান্য মামলার আসামিদের পরোয়ানা তামিল ও অপরাধ প্রতিরোধে মাঠে নামে জোরারগঞ্জ থানা পুলিশ:
সাজাপ্রাপ্ত আসামি গ্রেপ্তার: মীরসরাই থানার একটি পুরনো ছিনতাই মামলায় (মামলা নং-৬(১)২০০৫) ৩ বছরের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি শেখ সাব প্রকাশ শেখ ফরিদকে ১৬ সেপ্টেম্বর রাতে খিলমুরারী এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেন এএসআই মো: আব্দুল মমিন।
পেনাল কোড মামলার আসামি: ২০২৪ সালের একটি ভাঙচুর ও চুরি মামলায় (মামলা নং-১০, পেনাল কোড) তদন্তে প্রাপ্ত আসামি মোঃ ইমাম হোসেন (৪০) ও নাজিম উদ্দিনকে (৩৫) করেরহাট ও ঘেরামারা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেন এসআই মোহাম্মদ সুহেল মিঞা।
অন্যান্য গ্রেপ্তার: অপরাধ নিবারণমূলক কার্যধারায় (ফৌজদারী কার্যবিধি ১৫১ ধারা) আবুরহাট বাজার এলাকা থেকে মোঃ মহিউদ্দিন (৪০) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেন এএসআই মোঃ আব্দুল ওয়াহিদ। এছাড়াও বিভিন্ন মামলায় আরও ৩ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করে জোরারগঞ্জ থানা পুলিশ জানায়, আটককৃত আসামিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। এলাকায় অপরাধ দমন ও মাদক নির্মূলে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।