
পাহাড়ি সন্ত্রাসী ও অপরাধীদের আস্তানা হিসেবে পরিচিত সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে আবারো সাঁড়াশি অভিযান শুরু করেছে যৌথবাহিনী। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিকেল আনুমানিক ৪টায় সলিমপুরের আলীনগর উচ্চ বিদ্যালয় এলাকা থেকে এ বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় শুরু হওয়া এই অভিযানে জেলা পুলিশ, র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব), বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং গোয়েন্দা সংস্থার বিপুল সংখ্যক সদস্য অংশ নেন।
অভিযানের স্থান থেকে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম গণমাধ্যমকে জানান, জঙ্গল সলিমপুর এলাকাকে সন্ত্রাসমুক্ত রেখে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখাই বাহিনীর মূল উদ্দেশ্য। তিনি বলেন, “গত ৯ মার্চের বিশাল অভিযানের পর থেকে এলাকাটি যৌথবাহিনীর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণেই রয়েছে। তবে নতুন করে সন্ত্রাসী বা দখলদার বাহিনী যাতে কোনোভাবেই মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে, সেজন্যই আমাদের এই টহল ও সাঁড়াশি অভিযান। অপরাধী বা সন্ত্রাসী যারাই থাকুক না কেন, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।”
পুলিশ সুপার আরও উল্লেখ করেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর অবস্থানের কারণে এলাকার সিংহভাগ সন্ত্রাসীই এখন সলিমপুর ছেড়ে গা ঢাকা দিয়েছে। তবে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত বৃহস্পতিবারের অভিযানে নতুন কোনো গ্রেপ্তারের খবর পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, সীতাকুণ্ডের পাহাড় ঘেরা এই দুর্গম জঙ্গল সলিমপুর দীর্ঘদিন ধরে একাধিক সন্ত্রাসী চক্রের নিয়ন্ত্রণে ছিল। গত ১৯ জানুয়ারি সেখানে অভিযান চালাতে গিয়ে সন্ত্রাসীদের নৃশংস হামলায় প্রাণ হারান র্যাব-৭-এর উপসহকারী পরিচালক (নায়েব সুবেদার) মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া।
ওই মর্মান্তিক ঘটনার পর গত ৯ মার্চ পুরো সলিমপুর জুড়ে নজিরবিহীন অভিযান চালায় যৌথবাহিনী। তিন হাজারেরও বেশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, ৩টি হেলিকপ্টার, ১৫টি সাঁজোয়া যান (এপিসি), ডগ স্কোয়াড এবং ড্রোন দিয়ে চালানো সেই অভিযানে এলাকাটির নিয়ন্ত্রণ নেয় প্রশাসন।
চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ বোস্তামী এলাকা থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার পশ্চিমে, এশিয়ান উইমেন ইউনিভার্সিটির বিপরীতে লিংক রোডের উত্তর পাশে ৩ হাজার ১০০ একর পাহাড়জুড়ে বিস্তৃত এই জঙ্গল সলিমপুর। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, নিরাপত্তা বজায় রাখতে এই বিশেষ নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।