
বলো কোথায় তোমার দেশ
তোমার নেই কি চলার শেষ
ও নদীরে একটি কথাই সুধাই শুধু তোমারে…
শিল্পীর সেই গানের মতো নদীর আসলেই কোন দেশ নেই। জলের মাতমে সে বয়ে চলে দেশান্তরে। যে দেশের দুকুল ভাসায় সে দেশই তার। বাংলাদেশেও প্রতিবেশি দেশ থেকে নদী এসেছে। আগত নদীরা এখানে অতিথি নয়, তারা আমাদের অপরিহার্য অংশ হয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
ভুটানের সঙ্গে আমাদের সীমান্ত সংযোগ নেই। কিন্তু ভুটান থেকে আমাদের দেশে নদী চলে এসেছে। এই নদীর নাম রায়ডাক।
রায়ডাক নদীর ভুটানী নাম ওয়াং ছু বা ওং ছু । এটি ব্রহ্মপুত্র নদের একটি উপনদী। ওয়াং ছু বা রায়ডাক নদীর উৎস হিমালয় পর্বতমালা। উচ্চগতিতে ছুটে চলা এই নদী থিম্পু ছু নামে পরিচিত। মূল নদীটি খরস্রোতা। প্রস্তরময়। থিম্পু ও পারো ছু নদীর মোহনার মধ্যে এই নদীর গতিপথ অত্যন্ত সংকীর্ণ। কিন্তু তারপর এই পথ বিস্তার লাভ করেছে। সেখানে এটি অত্যন্ত খাড়াই ঢালের মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। এরপর এটি দক্ষিণপূর্ব দিকে প্রবাহিত হয়ে একটি তুলনামূলকভাবে মুক্ত উপত্যকায় পড়েছে। কাছাকাছি পার্বত্য অঞ্চল থেকে একাধিক ছোটো নদী এসে এই নদীতে মিশেছ।
পারো জংয়ের উজানে এই নদীর অন্যতম প্রধান উপনদী টা ছু এতে এসে বাম দিকে মিশেছে। পশ্চিম দিকে এই নদীর সঙ্গে মিশেছে হা ছু। তাশিছো জংয়ে নদীর সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২,১২১ মিটার (৬,৯৫৯ ফু) উঁচুতে। কিন্তু যেখানে এই নদী ডুয়ার্সে প্রবেশ করছে সেখানে এই উচ্চতা মাত্র ৯০ মিটার।
পশ্চিমবঙ্গের আলিপুরদুয়ার জেলায় ডুয়ার্সে প্রবেশ করার পর এই নদী কুচবিহার জেলার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। বাংলাদেশের কুড়িগ্রাম জেলায় রায়ডাক ব্রহ্মপুত্র নদে মিশেছে।এই অঞ্চলে এই নদীর নাম দুধকুমার। বাংলাদেশ অংশে এর গতিপথ মাত্র ১৬ কিলোমিটার। গড় প্রস্থ ২৪ মিটার। কুচবিহারে এই নদীকে কেউ কেউ সংকশ নদী বলেও ডাকে। ধরলা তিস্তা নীলকুমারের সঙ্গে এই নদীর প্রবল মিল। পাটেশ্বরী এসে দুধকুমার গদাধর এবং গঙ্গাধর নামে দুটি নদীকে উপনদী হিসেবে গ্রহণ করে ব্রহ্মপুত্র নদে পতিত হয়েছে।
রায়ডাক নদীর গতিপথের একক দৈর্ঘ্য ৩৭০ কিলোমিটার। তবে শাখা নদীগুলি নিয়ে শুধুমাত্র ভুটানেই এই নদীর দৈর্ঘ্য ৬১০ কিলোমিটার। তিস্তামুখের বাঁধ রায়ডাকের চলতি পথে দুর্গম করে দিয়েছে। রায়ডাকের বাংলাদেশ অংশ অল্পকিছুদিন পর খুজেও পাওয়া যাবে না। বাংলাদেশ অংশ থেকে তোলা রায়ডাকের ছবি আমার সংগ্রহ থেকে হারিয়ে গেছে। বন্ধুদের কাছ থেকে একটি ছবি প্রত্যাশা করছি…