হবিগঞ্জ জেলায় গ্যাসক্ষেত্র ও এর আশপাশে নতুন গ্যাসের সম্ভাবনা খুঁজতে ৮৭৫ বর্গকিলোমিটার এলাকায় ত্রিমাত্রিক (৩ডি) সাইসমিক জরিপ চালাচ্ছে বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেড (বিজিএফসিএল)। দেশের ক্রমবর্ধমান গ্যাসের চাহিদা মেটাতে নতুন কূপ খনন ও পুরোনো কূপ সংস্কারের পাশাপাশি হবিগঞ্জকে কেন্দ্র করে এ অনুসন্ধান কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। বিজিএফসিএলের মহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী আশরাফুল আলম গত রোববার জানান, সরকারের ১৫০টি কূপ খননের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠানটি গ্যাস উৎপাদন বাড়াতে পাঁচটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এসব প্রকল্পের আওতায় নতুন কূপ খনন এবং বিদ্যমান কূপের ওয়ার্কওভার করা হবে। বিজিএফসিএল সূত্র জানায়, বর্তমানে হবিগঞ্জসহ ছয়টি গ্যাসক্ষেত্র পরিচালনা করছে প্রতিষ্ঠানটি। এগুলো হলো তিতাস, হবিগঞ্জ, বাখরাবাদ, নরসিংদী, মেঘনা ও কামতা। দেশের মোট অভ্যন্তরীণ গ্যাস উৎপাদনের প্রায় ৩০ শতাংশ এবং সামগ্রিক গ্যাস সরবরাহের প্রায় ১৮ শতাংশ আসে প্রতিষ্ঠানটির গ্যাসক্ষেত্রগুলো থেকে।
নতুন গ্যাসের সম্ভাবনাময় কাঠামো চিহ্নিত করতে বর্তমানে মোট ১ হাজার ৪৫০ বর্গকিলোমিটার এলাকায় ৩ডি সাইসমিক জরিপ চলছে। এর মধ্যে হবিগঞ্জ গ্যাসক্ষেত্র ও সংলগ্ন এলাকায়ই ৮৭৫ বর্গকিলোমিটার এলাকায় এ জরিপ পরিচালনা করা হচ্ছে। বাকি ৫৭৫ বর্গকিলোমিটার এলাকায় জরিপ চলছে বাখরাবাদ, নরসিংদী ও মেঘনা গ্যাসক্ষেত্র এলাকায়। এ ছাড়া তিতাস গ্যাসক্ষেত্রের উত্তর-পশ্চিম এবং নরসিংদী গ্যাসক্ষেত্রের উত্তর-পূর্ব এলাকায় ৬৩২ বর্গকিলোমিটারজুড়ে ২ডি ও ৩ডি সিসমিক জরিপ পরিচালনা করা হচ্ছে।বিজিএফসিএলের মহাব্যবস্থাপক আশরাফুল আলম বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে ছয়টি নতুন কূপ খনন এবং স্থগিত থাকা আটটি কূপের ওয়ার্কওভারের মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক প্রায় ১০৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস যুক্ত করার লক্ষ্য রয়েছে। এ ছাড়া আরও নয়টি নতুন কূপ খনন ও ১২টি কূপের ওয়ার্কওভারের মাধ্যমে অতিরিক্ত ১২৬ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদনের প্রত্যাশা করছে প্রতিষ্ঠানটি।
দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার আওতায় ২০৩৫ সালের মধ্যে ১৯টি কূপ থেকে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক প্রায় ২৩৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এরই মধ্যে ‘তিতাস ও কামতা ফিল্ডে চারটি মূল্যায়ন-কাম-উন্নয়ন কূপ খনন’ প্রকল্পের আওতায় তিতাস-২৮ কূপের খননকাজ শেষ হয়েছে। গত শনিবার কূপটি উদ্বোধনের পর সেখান থেকে দৈনিক সাড়ে ১২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে। বিজিএফসিএল জানিয়েছে, ভবিষ্যতে গ্যাসের উৎপাদন বাড়াতে তিতাস-৩১ ও তিতাস-২৯ গভীর অনুসন্ধান কূপের খননকাজও চলছে। এর পাশাপাশি হবিগঞ্জ গ্যাসক্ষেত্র এলাকায় চলমান সাইসমিক জরিপ থেকে নতুন গ্যাসের সম্ভাবনাময় কাঠামো শনাক্ত হলে সেখানে পরবর্তী সময়ে কূপ খননের উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে।