
দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র ৫৬ দিনের মাথায় চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে সরিয়ে নতুন উপাচার্য নিয়োগের প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। টানা দ্বিতীয় দিনের মতো সব ধরনের ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে ‘শাটডাউন’ কর্মসূচি পালন করছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকে অবস্থান নেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তাদের দাবির পক্ষে শুরু হয় সর্বাত্মক গণস্বাক্ষর সংগ্রহ কর্মসূচি। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতিও শিক্ষার্থীদের দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছে।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ২১ সেপ্টেম্বরের প্রজ্ঞাপনে কোনোরকম সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই অধ্যাপক সায়েমকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। গত ২৭ জুলাই দায়িত্ব নেওয়ার পর সংক্ষিপ্ত সময়ে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক অচলাবস্থা নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছিলেন, যা শিক্ষার্থীদের আস্থা অর্জন করে।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, পদচ্যুত উপাচার্যকে স্বপদে বহাল না করা পর্যন্ত তারা ক্লাসে ফিরবেন না এবং শাটডাউন কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।
উল্লেখ্য, গত সোমবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) ইলেকট্রনিকস অ্যান্ড টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এই খবর প্রকাশ হওয়ার পরপরই সোমবার রাতে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভে ফেটে পড়েন এবং প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেন। মঙ্গলবার সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম সম্পূর্ণরূপে স্তব্ধ রয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক পরিস্থিতির বিষয়ে চুয়েটের ছাত্রকল্যাণ পরিচালক অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম জানান, শিক্ষার্থীরা বর্জন করায় ক্যাম্পাসে কোনো ধরনের একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না।