
বন্দরনগরী চট্টগ্রাম বর্তমানে ময়লা-আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। এর সঙ্গে ফুটপাত দখল, এলোপাতাড়ি গাড়ি পার্কিং, সড়কে খানাখন্দ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিতে নাভিশ্বাস উঠেছে জনজীবনে। এই অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে চট্টগ্রামকে পরিচ্ছন্ন, পরিকল্পিত ও বিশ্বমানের বাসযোগ্য শহর হিসেবে গড়ে তোলার পাশাপাশি ঘোষিত ‘বাণিজ্যিক রাজধানী’ বাস্তবায়নে অবিলম্বে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছে বৃহত্তর চট্টগ্রাম উন্নয়ন সংগ্রাম কমিটি।
গতকাল শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দৈনিক পূর্বকোণ সেন্টারের মরহুম ইউসুফ চৌধুরী কনফারেন্স হলে অনুষ্ঠিত সংগঠনের এক গুরুত্বপূর্ণ সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।
সভায় সভাপতির বক্তব্যে সংগঠনের স্থায়ী পরিষদের সভাপতি ও দৈনিক পূর্বকোণ লিমিটেডের চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন চৌধুরী বলেন, “চট্টগ্রাম নগরীর বর্তমান চিত্র অত্যন্ত হতাশাজনক। জনভোগান্তি এখন চরমে পৌঁছেছে। পাশাপাশি নগরজুড়ে ডেঙ্গুর ভয়াবহতা মোকাবিলায় দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।”
সংগঠনের মহাসচিব এইচ এম মুজিবুল হক শাকুর কালুরঘাট সেতু নিয়ে গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “কালুরঘাট নতুন সেতুর উদ্বোধনী ফলক উন্মোচনের দুই বছর পার হয়ে গেলেও কাজের কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। এতে চট্টগ্রামবাসী চরম উদ্বেগ ও হতাশায় দিন কাটাচ্ছে।”
সভায় বক্তারা নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তারা বলেন, বর্তমান সরকারের গত আট মাসে দফায় দফায় জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে। এর প্রভাবে চাল-ডালসহ সব ধরনের নিত্যপণ্যের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। তার ওপর বিদ্যুৎ, গ্যাস ও সুপেয় পানির মূল্যবৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষ আজ দিশেহারা।
সংগঠনের সদস্য লায়লা ইব্রাহীম বানু, অধ্যাপক নু ক ম আকবর হোসেন, সিনিয়র সহ-সভাপতি প্রকৌশলী মুহাম্মদ ইব্রাহীম, অর্থ সম্পাদক লায়ন মুহাম্মদ নুরুল আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক জিকরুল হাবিবিল ওয়াহিদসহ অন্যান্য কেন্দ্রীয় নেতারা সভায় বক্তব্য দেন।
বক্তারা অবিলম্বে ডেঙ্গু প্রতিরোধে ক্রাশ প্রোগ্রাম চালু, কালুরঘাট সেতুর দ্রুত নির্মাণকাজ শুরু এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও নিত্যপণ্যের দাম সাধারণ মানুষের সহনশীল পর্যায়ে নিয়ে আসার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান।