ঢাকা
২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম
এক মন্ত্রণালয়ে একাধিক প্রতিমন্ত্রী—আইনে কি অনুমোদন আছে? মুহুরী নদীর পানি বাড়ছে হু হু করে: বাঁধ ভাঙার আশঙ্কায় নির্ঘুম ফেনীবাসী ​ শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় স্মরণ করা হচ্ছে যমুনা গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা নুরুল ইসলামকে ঢাকার পাশে ঘন ঘন ভূমিকম্প: বড় বিপদের আগাম বার্তা যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটিতে সহ-সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হলেন সিলেটের মোহাম্মদ মাকসুদ আহমেদ তাহিরপুরে হত্যা করে লাশ গুমের ঘটনায় পলাতক আসামি নারায়ণগঞ্জে গ্রেফতার বিদ্যুৎ সাশ্রয় কর্মসূচি: ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান খোলা থাকবে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত বিরল সূর্যগ্রহণে ইউরোপে উন্মাদনা হবিগঞ্জ কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু ওয়াশিংটনের সঙ্গে সমঝোতায় বিশাল ক্ষতিপূরণ পেতে যাচ্ছে ইরান

‘মাদকের আখড়া নয়, নিরাপদ হরিকেশ চাই’: কুড়িগ্রামে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি

আনোয়ার হোসেন, কুড়িগ্রাম

বাংলাদেশ মিডিয়া প্রতিবেদক
মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬   ১৫ বার পঠিত
‘মাদকের আখড়া নয়, নিরাপদ হরিকেশ চাই’: কুড়িগ্রামে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি

​কুড়িগ্রাম পৌর শহরের নিকটবর্তী জনপদ চর হরিকেশ। দিনের আলো নিভতেই এই এলাকায় নেমে আসে গভীর আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠা। দীর্ঘদিন ধরে হাত বাড়ালেই মিলছে হেরোইন, ইয়াবা, গাঁজা ও ফেনসিডিলসহ নানা জাতের মাদক। প্রকাশ্যে কেনাবেচা ও মাদকসেবীদের উৎপাতে দিশেহারা এলাকাবাসী। মাদকের করাল গ্রাসে বিপথগামী হচ্ছে তরুণ প্রজন্ম, যা নিয়ে চরম শঙ্কায় রয়েছেন অভিভাবকেরা।

​সম্প্রতি মাদকবিরোধী প্রতিবাদ ও ব্যক্তিগত আক্রোশের জেরে প্রকাশ্যে খুন হন ৮০ বছর বয়সী বৃদ্ধ রোস্তম আলী খোকা। তিনি জেলা মাদক প্রতিরোধ কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক, জেলা উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক এবং দৈনিক কালবেলার কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি সাইয়েদ আহমেদ বাবুর শ্বশুর। ​গত ১৮ সেপ্টেম্বর (শুক্রবার) সকালে চর হরিকেশ এলাকায় প্রকাশ্য সড়কে এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা ধাওয়া করে আব্দুল জলিল নামে এক চিহ্নিত মাদকসেবীকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। পরবর্তীতে পুলিশ জলিলকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আইনগত প্রক্রিয়া শুরুর কথা জানায়।

​হত্যাকাণ্ডের পর হরিকেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে জনমনে তীব্র ক্ষোভ ও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় বাসিন্দা মো. এরশাদুল হক (৩২) বলেন, “রোস্তম আলী চাচা ফজরের নামাজ শেষে মোড়ে চা খেয়ে বের হওয়া মাত্রই জলিল এসে তার বুকে ছুরি বসিয়ে দেয়। আমরা ধরে তাকে পুলিশে দিই। নিহত ব্যক্তি অত্যন্ত ধার্মিক ও ভালো মানুষ ছিলেন। খুনি জলিল এলাকাতেই চিহ্নিত মাদকসেবী।”

​একই এলাকার আব্দুল মজিদ (৩৪) বলেন, “রোস্তম চাচা মানুষকে মাদকের বিরুদ্ধে উপদেশ দিতেন। এমনকি খুনি জলিলকেও ভালো পথে আসা ও নামাজ পড়ার কথা বলতেন। এটাই ছিল তার অপরাধ, যার জন্য তাকে জীবন দিতে হলো। আমরা এই হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক বিচার ও এলাকাকে মাদকমুক্ত করতে প্রশাসনের সাঁড়াশি অভিযান চাই।”

​স্থানীয়দের অভিযোগ, এলাকায় মাদক কেন্দ্রিক অপরাধ, চুরি ও ছিনতাই দিন দিন বাড়ছে। পুলিশ ও জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযান চালানো হলেও এর স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না। গত ৩০ আগস্ট রাতে আগমনী বাজার এলাকায় ৮০ পিস নিষিদ্ধ ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ হরিকেশের বাসিন্দা মো. আবু লাইচ শামসুদোহা শাওনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এছাড়া আগস্ট মাসেই ১০ কেজি গাঁজাসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। কিন্তু নিয়মিত অভিযানের পরও মাদকের মূল যোগানদাতা ও নেপথ্যের সিন্ডিকেট অধরা থেকে যাওয়ায় পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হচ্ছে না।

​হরিকেশ কানিপাড়া এলাকার প্রবীণ বাসিন্দা মো. আক্কেল আলী (৬৮) ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “মাদক নির্মূলে আমরা মসজিদভিত্তিক কমিটি করে প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করছি। কিন্তু দুঃখজনকভাবে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের কার্যকর সহায়তা পাচ্ছি না। দ্রুত খুনি ও মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা না নিলে আমরা রাজপথে নামতে বাধ্য হব।”

​হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে জেলা মাদক প্রতিরোধ কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক সাইয়েদ আহমেদ বাবু বলেন, “আমি নিজে দীর্ঘ দিন ধরে মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলন করে আসছি। সেই প্রতিহিংসা থেকেই আমার শ্বশুরকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। আর যেন কোনো পরিবারকে এভাবে স্বজন হারাতে না হয়, সেজন্য আমি প্রশাসনের কাছে সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।”

​প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে জানতে চাইলে কুড়িগ্রাম সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামাল হোসেন জানান, হরিকেশ এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত রয়েছে। বৃদ্ধ রোস্তম আলী খোকা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় অভিযুক্ত আব্দুল জলিলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং আদালতে সে হত্যাকাণ্ডের স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দিও দিয়েছে। মাদকের সরবরাহ বন্ধ ও অপরাধীদের গ্রেপ্তারে পুলিশি তৎপরতা আরও জোরদার করা হচ্ছে।

​তবে কেবল পুলিশি অভিযানে সীমাবদ্ধ না থেকে মাদকের উৎস শনাক্ত, এলাকাভিত্তিক সচেতনতা বৃদ্ধি, যুবসমাজকে খেলাধুলা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করা এবং আসক্তদের পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন সুশীল সমাজ। হরিকেশের পরিচিতি ‘মাদকের আখড়া’ হিসেবে নয়—একটি শান্ত ও নিরাপদ আবাসিক এলাকা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে প্রশাসনের জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নের আকুল আবেদন এলাকাবাসীর।

Facebook Comments Box
আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
SuMoTuWeThFrSa