
রাজশাহীতে হঠাৎ করেই ভয়াল রূপ ধারণ করেছে পদ্মা নদী। গতকাল বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টার দিকে নদীর অববাহিকায় আকস্মিক তীব্র উত্তাল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ সময় প্রায় ১০ থেকে ১৫ ফুট উঁচু বিশাল ঢেউয়ের ধাক্কায় নদীপাড়ের বাসিন্দাদের মাঝে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
জানা গেছে, উত্তাল ঢেউয়ের কবল থেকে নিজেদের জীবন-জীবিকার একমাত্র সম্বল নৌকাগুলো রক্ষা করতে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন একাধিক মাঝি ও তাঁদের স্বজনেরা। এ ঘটনায় বেশ কয়েকটি নৌকা ডুবে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এতে আহত হয়েছেন অন্তত ৫ থেকে ৭ জন। তাঁদের দ্রæত উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং বর্তমানে তাঁরা সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (, ১৭ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে ডুবে যাওয়া নৌকাগুলো উদ্ধারে অভিযান চালাচ্ছে স্থানীয়রা। স্থানীয়রা বলছেন, ঘটনার পরপর নদীতে থাকা নৌকা ধরতে গিয়ে অন্তত ৭ জন আহত হয়েছেন।
পদ্মা নদীর তীরবর্তী কেশবপুর এলাকার প্রবীণ বাসিন্দারা এই ঘটনায় আতঙ্ক প্রকাশ করেছেন। তাঁরা জানান, বিগত ৩০ বছরের ইতিহাসেও পদ্মার এমন ভয়াবহ ও বিধ্বংসী রূপ তাঁরা দেখেননি। হঠাৎ করে নদীর এমন অস্বাভাবিক আচরণে পুরোপুরি দিশেহারা হয়ে পড়েছেন স্থানীয়রা।
এদিকে, নদীর তীরবর্তী এলাকার সুরক্ষায় নির্মিত বাঁধের বর্তমান অবস্থা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী। ভাঙন থেকে পদ্মা তীরের ঘরবাড়ি ও জীবন-জীবিকা রক্ষায় অনতিবিলম্বে নদী তীর সংরক্ষণ বাঁধ সংস্কার ও টেকসই করার জন্য সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ ও কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
মাঝিরা জানান, গত রাত ৯টার দিকে হঠাৎ করে পশ্চিম দিক থেকে আসা একটি ঝড়ে তীব্র গতিতে টি-বাঁধের সামনের নদীতে আঘাত হানে। ফলে অন্তত দশ ফুটের একটি জলোচ্ছ্বাস তৈরি হয়।
এতে পাড়ে বাধা নৌকা গুলো ডুবে যাওয়ার পাশাপাশি শহর রক্ষা বাঁধেরও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। কয়েকটি স্থানে বাঁধের বøক নিচের দিকে দেবে গেছে, যা খুব শিগগিরই ভাঙনের তৈরি করবে।
এ বিষয়ে রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী বলেন, ‘ঝড়ে কারণে এমন বড় স্রোত সৃষ্টি হয়েছে। আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই।’ তবে বাঁধ ভাঙনের বিষয় ক্ষতিয়ে দেখে পানি কমলে ক্ষতিগ্রাস্ত এলাকার বাঁধ মেরামত করা হবে বলেও জানান তিনি।