
ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগসহ কয়েকটি দাবিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ডাকা সংসদ অভিমুখে পদযাত্রা দিল্লির নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। প্রশ্ন উঠেছে, আন্দোলনের প্রকৃত ব্যাপকতা কি আগেই আঁচ করতে ব্যর্থ হয়েছিল দিল্লি পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো?
সোমবার নয়াদিল্লির যন্তর মন্তর থেকে শুরু হওয়া এ কর্মসূচিতে বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেন। একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ সংসদ ভবনের কাছাকাছি পৌঁছে যায়। এ ঘটনায় ২০২১ সালের ২৬ জানুয়ারির লালকেল্লা ঘটনার সঙ্গে তুলনা টানছেন অনেকে।
নিরাপত্তা সূত্রের বরাতে জানা গেছে, দিল্লি পুলিশ ও গোয়েন্দা বিভাগ বিক্ষোভকারীর সংখ্যা কয়েক হাজারের মধ্যে থাকবে বলে ধারণা করেছিল। তবে বাস্তবে যন্তর মন্তর ও আশপাশের এলাকায় উপস্থিত মানুষের সংখ্যা ছিল অনেক বেশি।
যন্তর মন্তর এলাকায় প্রায় তিন হাজার মানুষের ধারণক্ষমতা থাকলেও রোববার সন্ধ্যার মধ্যেই সেখানে প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ জড়ো হন। সোমবার সকালে এ সংখ্যা আরও বেড়ে যায়। পুলিশ সূত্রের ধারণার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি মানুষ আন্দোলনে অংশ নেন।
সেন্ট্রাল ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিকিউরিটি ফোর্সের (সিআইএসএফ) সূত্র জানিয়েছে, সিজেপির কর্মসূচিতে পাঁচ হাজারের বেশি মানুষের উপস্থিতি হবে—এমনটা তারা প্রত্যাশা করেনি।
প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে চলা এ আন্দোলন শুরুতে তেমন বড় আকার ধারণ করেনি। ২৮ জুন অধিকারকর্মী সোনম ওয়াংচুক অনশন শুরু করার আগে যন্তর মন্তরে উপস্থিত বিক্ষোভকারীর সংখ্যা ছিল সীমিত।
তবে ১৮ জুলাই পুলিশ ওয়াংচুককে সেখান থেকে সরিয়ে নেওয়ার পর আন্দোলনে নতুন গতি আসে। এরপর বিভিন্ন স্থান থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষ এতে যুক্ত হতে শুরু করেন।
বিক্ষোভ মোকাবিলায় পুলিশ প্রায় দুই হাজার সদস্য এবং প্যারামিলিটারি বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করেছিল। যন্তর মন্তর, পার্লামেন্ট স্ট্রিট, রাইসিনা রোডসহ বিভিন্ন এলাকায় বসানো হয় একাধিক স্তরের ব্যারিকেড।
তবে সোমবার সকালে বিক্ষোভকারীর সংখ্যা প্রত্যাশার চেয়ে বেড়ে গেলে দিল্লির বিভিন্ন এলাকা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য পাঠানো হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারাও ঘটনাস্থলে যান।
পুলিশ কর্মকর্তারা আয়োজকদের সঙ্গে আলোচনা করে মিছিল সীমিত রাখার চেষ্টা করেন। তবে কয়েক দফা আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
সংসদ ভবনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশ বিক্ষোভকারীদের বাধা দেয়। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ ও লাঠিচার্জ করে।
বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশের দিকে জুতা, বোতল ও পাথর ছোড়ার অভিযোগ করা হয়েছে। অন্যদিকে পুলিশও অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করেছে বলে অভিযোগ করেছেন আন্দোলনকারীরা।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে বারবার শান্তিপূর্ণ অবস্থানের আহ্বান জানানো হলেও শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে পড়ে। দিল্লি পুলিশের জন্য এটি ছিল আকস্মিক বড় আকারের একটি জনসমাগম নিয়ন্ত্রণের চ্যালেঞ্জ।