
মৌলভীবাজারে সন্ত্রাসীদের ধারালো অস্ত্রাঘাতে গুরুতর আহত হয়েছেন ১ যুবক। আহত যুবক শহরতলীর সোনাপুর গ্রামের মৃতঃ আলী নেওয়াজের একমাত্র পুত্র দাউদ ইবনে নেওয়াজ (২২)। সন্ত্রাসী এ ঘটনায় আহতের বোন বাদী হয়ে মৌলভীবাজার মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।
যুবককে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে গুরুতর জখম করার অভিযোগে তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মামলায় মারধর, পথরোধ, টাকা নিয়ে যাওয়াসহ ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে মামলার পরও এখন পর্যন্ত কোনো আসামি গ্রেপ্তার হয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৯ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক ৮টার দিকে মৌলভীবাজার সদর মডেল থানাধীন মৌলভীবাজার পৌরসভার বড়বাড়ি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের সামনে পাকা রাস্তার ওপর এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় আহত দাউদ ইবনে নেওয়াজের বোন জাকিয়া নেওয়াজ আঁখি (২৯) বাদী হয়ে ১৬ সেপ্টেম্বর মৌলভীবাজার সদর মডেল থানায় মামলা করেন। মামলায় জসিম (৪০), জাকির আলী (৩৫) ও মো. খালেদ (৩০)-কে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়, পূর্ববিরোধের জের ধরে আসামিরা দাউদ ইবনে নেওয়াজসহ অন্যদের পথরোধ করে হামলা করেন। একপর্যায়ে দাউদের মাথায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করার চেষ্টা করা হলে তিনি বাম হাত দিয়ে প্রতিহত করেন। এতে তার বাম হাতের কব্জিতে গুরুতর জখম হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও বলা হয়, আসামিরা দাউদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন। একপর্যায়ে তার ট্রাউজারের ডান পকেটে থাকা নগদ ১০ হাজার টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। এ সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত লোকজন এগিয়ে এলে তাদেরও ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে স্থানীয় লোকজন আহত দাউদকে উদ্ধার করে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। এজাহার অনুযায়ী, তার অবস্থার অবনতি হলে পরে তাকে মৌলভীবাজার লাইফলাইন হাসপাতালে নিয়ে অস্ত্রোপচার করা হয়।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সাব-ইন্সপেক্টর (নিরস্ত্র) মো. মহরম আলী বলেন, “ঘটনার বিষয়ে থানায় অভিযোগ দেওয়ার পর মামলা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য তাদের বাড়িসহ বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে খোঁজ নেওয়া হয়েছে। তবে আসামিদের পাওয়া যায়নি। আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে তাদের গ্রেপ্তার করা হবে।”
এদিকে আহত দাউদের বোন ও মামলার বাদী জাকিয়া নেওয়াজ আঁখি বলেন, “আমার একমাত্র ভাইকে যেভাবে আঘাত করা হয়েছে, আল্লাহ সহায় থাকায় সে প্রাণে বেঁচে ফিরেছে। আমার ভাইয়ের ওপর হামলাকারীরা এখনো স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করছে। তারা গ্রাম ও শহরে যাতায়াত করছে। অথচ এখনো তাদের গ্রেপ্তার করা হয়নি।”
তিনি আরও বলেন, “মামলার বাদী হওয়ায় আমি ও আমার পরিবার ভয়ের মধ্যে আছি। কখন আমাদের ওপরও হামলা হয়, সেই আতঙ্ক কাজ করছে। আমরা চাই, আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হোক এবং আমাদের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক।”
জাকিয়া জানান, তার ভাইয়ের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িত আসামিদের পুলিশের হাতে ধরিয়ে দিতে সহায়তা করতে পারেন—এমন ব্যক্তিদের নগদ পুরস্কার দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
আহত দাউদের মা বলেন, “আমার ছেলের ওপর যারা হামলা করেছে, তাদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে বিচারের মুখোমুখি করা হোক। পুলিশ প্রশাসন ও সরকারের কাছে এটাই আমার দাবি।”
মামলার অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। মামলায় করা অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।