ঢাকা
২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম
এক মন্ত্রণালয়ে একাধিক প্রতিমন্ত্রী—আইনে কি অনুমোদন আছে? মুহুরী নদীর পানি বাড়ছে হু হু করে: বাঁধ ভাঙার আশঙ্কায় নির্ঘুম ফেনীবাসী ​ শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় স্মরণ করা হচ্ছে যমুনা গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা নুরুল ইসলামকে ঢাকার পাশে ঘন ঘন ভূমিকম্প: বড় বিপদের আগাম বার্তা যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটিতে সহ-সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হলেন সিলেটের মোহাম্মদ মাকসুদ আহমেদ তাহিরপুরে হত্যা করে লাশ গুমের ঘটনায় পলাতক আসামি নারায়ণগঞ্জে গ্রেফতার বিদ্যুৎ সাশ্রয় কর্মসূচি: ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান খোলা থাকবে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত বিরল সূর্যগ্রহণে ইউরোপে উন্মাদনা হবিগঞ্জ কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু ওয়াশিংটনের সঙ্গে সমঝোতায় বিশাল ক্ষতিপূরণ পেতে যাচ্ছে ইরান

দলীয় প্রতীকে ভোট বাধ্যতামূলক, যা বলছে রাজনৈতিক দলগুলো

জাতীয় সংসদ নির্বাচন

বাংলাদেশ মিডিয়া ডেস্ক
শনিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৫   ১২৫৭ বার পঠিত
দলীয় প্রতীকে ভোট বাধ্যতামূলক, যা বলছে রাজনৈতিক দলগুলো

আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে দেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নির্বাচনের আগে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ নির্বাচন-সংক্রান্ত আইন গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সংশোধনের খসড়া অনুমোদন দিয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে, কোনো দল জোটগতভাবে নির্বাচন করলেও নিজেদের দলীয় প্রতীকে অংশ নিতে হবে।

এই সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বিএনপি ও ছোট রাজনৈতিক দলগুলো। তাদের অভিযোগ, আলোচনা ছাড়াই তড়িঘড়ি করে নেয়া এই সিদ্ধান্ত বহুদলীয় গণতন্ত্র ও সংসদে বহুমতের আদর্শকে ব্যাহত করবে। তবে এমন বিধান নিয়ে দ্বিমত নেই জামায়াতে ইসলামীর।

অন্যদিকে জোটভুক্ত হলেও দলীয় প্রতীকে নির্বাচনের সিদ্ধান্তটি ইতিবাচক হিসেবে দেখছে নতুন রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।

বিএনপি সরকারের এমন সিদ্ধান্তে কোনোভাবেই সম্মত নয় উল্লেখ করে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, নির্বাচনী আচরণবিধি ও আরপিও সংশোধনের যে খসড়া অনুমোদন করা হয়েছে, তাতে প্রতীকের বিষয়ে বিএনপির কোনো সম্মতি ছিল না। রাজনৈতিক বাস্তবতা ও নির্বাচনের স্বার্থে বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন।

এ বিষয়ে বিএনপি নির্বাচন কমিশন ও আইন উপদেষ্টার কাছে আনুষ্ঠানিক চিঠি দেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলেও জানান বিএনপির এ নেতা। বিএনপি আরও মনে করছে, প্রতীকের বাধ্যবাধকতা থাকলে জোটগতভাবে নির্বাচনে অংশ নিলে অনেক ছোট দলই ভরাডুবির মুখে পড়বে। কারণ, তাদের প্রতীক ভোটারদের কাছে অপরিচিত, ফলে অনেক আসন হাতছাড়া হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এদিকে জোটভুক্ত ছোট দলগুলো বলছে, আগে জোটের যে কোনো প্রতীকে নির্বাচন করা যেত। কিন্তু এখন নিজেদের প্রতীকে অংশ নিতে হলে অল্প সময়ের মধ্যে জনগণের কাছে প্রতীক পরিচিত করা কঠিন হবে।

এনডিএম চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ বলেন, সরকার রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা ছাড়াই একতরফা সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এটা শেখ হাসিনার আমলের মতোই কাজ বলে মনে হচ্ছে। জোটবদ্ধ নির্বাচনে প্রতীক উন্মুক্ত থাকা উচিত।

নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, এখন প্রতীক পরিচিত করতে অনেক সময় ও পরিশ্রম লাগবে। আগে জোটের প্রতীকে নির্বাচন করলে সহজে ভোটারদের কাছে পৌঁছানো যেত।

বিজেপি চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ মনে করেন, এই আইন বাস্তবায়ন হলে বহুদলীয় গণতন্ত্র ও সংসদে বহুমতের অংশগ্রহণ ব্যাহত হবে। ছোট দলগুলো যেসব সুবিধা পেত, তা হারিয়ে ফেলবে।

গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকিও একই মত প্রকাশ করে বলেন, প্রতীকের বিষয়টি উন্মুক্ত থাকাটাই ভালো হতো। তবে ভিন্নমত এলডিপি মহাসচিব ড. রেদোয়ান আহমদের। তিনি বলেন, এই আইনে প্রতিটি দলের নিজস্বতা বাড়বে। সারাদেশে ভোটের অনুপাতও বোঝা সহজ হবে। তবে ছোট দলগুলোর জন্য বাস্তবায়নটা এখনই কঠিন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, এ সিদ্ধান্ত স্বল্পমেয়াদে জোট রাজনীতির গতিশীলতা কমিয়ে দিতে পারে। কারণ, ছোট দলগুলো এখনও সাংগঠনিকভাবে দুর্বল এবং তাদের প্রতীক ভোটারদের কাছে পরিচিত নয়। বেশ কিছু ছোট দল প্রস্তাব করেছে, এই আইনটি আগামী নির্বাচন নয়, পরবর্তী নির্বাচন থেকে কার্যকর করা হোক, যাতে তারা সংগঠন ও প্রতীক পরিচিত করতে পর্যাপ্ত সময় পায়।

সূত্র: সমকাল

Facebook Comments Box
আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
SuMoTuWeThFrSa