
কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে জনবল সরবরাহের অবৈধ টেন্ডার প্রক্রিয়ার ওপর দুই মাসের স্থগিতাদেশ দিয়েছেন মহামান্য হাইকোর্ট (রিট পিটিশন নম্বর: ১৩৭০০/২৬)।
সংবাদ অনুসন্ধানে জানা যায়, কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে ৪৭ জন জনবল সরবরাহের লক্ষে দরপত্র আহ্বান করা হয়। উক্ত দরপত্রে ২২টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অংশ নেয় এবং দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে ‘স্বরলিপি সার্ভিসেস লিঃ’-কে পরবর্তী এক বছরের (২০২৫-২০২৬ অর্থবছর) জন্য সুপারিশ করে। কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের (ডিজি) চূড়ান্ত প্রশাসনিক অনুমোদন না পাওয়ায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি মহামান্য হাইকোর্টে রিট পিটিশন (নম্বর: ১৭১৯৫/২৫) দায়ের করে। আদালত বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনায় ৬ মাসের জন্য জনবল সরবরাহের অনুমতি দিতে তত্ত্বাবধায়ককে নির্দেশ প্রদান করেন।
চলতি বছরের ৩০ জুন সেই ৬ মাসের মেয়াদ শেষ হলে আউটসোর্সিংয়ের ৪৭ জন স্বাস্থ্যসেবা কর্মী সাময়িক কর্মহীন হয়ে পড়েন। পরবর্তীতে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ড. নূর নেওয়াজ এক অফিস আদেশের মাধ্যমে গত ১ জুলাই থেকে ঐ ৪৭ জন কর্মীকে স্বপদে বহাল রাখেন। একই সঙ্গে তিনি আশ্বাস দেন যে, যেহেতু পূর্বের দরপত্রের মেয়াদ আরও ছয় মাস অবশিষ্ট রয়েছে, তাই ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরে নবায়ন সাপেক্ষে তাদের বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধ করা হবে। সেই আশ্বাস অনুযায়ী গত ১ জুলাই থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত ঐ ৪৭ জন কর্মী হাসপাতালে নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতাসহ জরুরি সেবা দিয়ে আসছেন। তবে সম্প্রতি অভিযোগ উঠেছে, বিশাল অঙ্কের অনৈতিক আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে কর্মরত ৪৭ জন নিরীহ কর্মচারীর ভবিষ্যৎ বিবেচনা না করেই গত ১৩ সেপ্টেম্বর ই-জিপিতে (আইডি নম্বর: ১৩৩৩৭৭৩) নতুন টেন্ডার আহ্বান করেন তত্ত্বাবধায়ক। নতুন কোনো প্রতিষ্ঠান কাজ পেলে বর্তমানে কর্মরত এসব সেবা কর্মী কাজ হারিয়ে পুরোপুরি বেকার হয়ে পড়বেন; অথচ তাদের বেতন বাবদ অর্থ মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ ২০২৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত রয়েছে।
এমতাবস্থায় কোনো উপায় না পেয়ে স্বরলিপি সার্ভিসেস লিমিটেড নতুন টেন্ডার প্রক্রিয়া বন্ধের দাবিতে গত ২৩ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টে একটি নতুন রিট পিটিশন (১৩৭০০/২৬) দায়ের করে। প্রাথমিক শুনানি শেষে মহামান্য হাইকোর্ট ওই টেন্ডারের ওপর দুই মাসের স্থগিতাদেশ দেন।
কর্মরত ৪৭ জন স্বাস্থ্যকর্মীর রুজি-রোজগার বন্ধ করার অপচেষ্টা ও তত্ত্বাবধায়ক ড. নূর নেওয়াজের এমন প্রতারণামূলক আচরণের তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. নিসর্গ মেরাজ চৌধুরী বলেন, “বর্তমানে এই ৪৭ জন সেবা কর্মীর ওপর নির্ভর করেই হাসপাতালের স্বাভাবিক কার্যক্রম চলছে। মানবিক দিক বিবেচনা করে তাদের কাজের ধারাবাহিকতা ও উপার্জনের পথ অব্যাহত রাখা উচিত বলে আমি মনে করি।”
ঘটনার বিষয়ে বক্তব্য জানতে হাসপাতালে গিয়ে তত্ত্বাবধায়ক ড. নূর নেওয়াজকে পাওয়া যায়নি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা জানান, তিনি বর্তমানে প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণে ঢাকায় অবস্থান করছেন।
#