
চট্টগ্রামের রাউজানে এক দলবদ্ধ ডাকাতির বড় ধরনের পরিকল্পনা নস্যাৎ করে দিয়েছে পুলিশ। জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও রাউজান থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে দেশীয় তৈরি আগ্নেয়াস্ত্র ও মারাত্মক সব অস্ত্রসহ ৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ৩টা ২৫ মিনিটে উপজেলার কদলপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের একটি মাদ্রাসার সংলগ্ন এলাকা থেকে তাদের হাতেনাতে আটক করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— রাউজানের শাওয়াল খলিফা বাড়ির বদিউল আলমের ছেলে মো. শাহাদাত হোসেন সাজ্জাদ (৩০), পূর্ব রাউজান এলাকার মো. মুসার ছেলে মো. জাফর (৩৮) এবং একই এলাকার মো. সেলিম উদ্দিনের ছেলে মো. সাফায়েত হোসেন সিফাত (১৯)।
অভিযানকালে পুলিশ আসামীদের কাছ থেকে ১টি দেশীয় তৈরি এলজি, ২ রাউন্ড সীসা কার্তুজ, ১টি রামদা ও ১টি ধারালো ছোরা জব্দ করে।
পুলিশের দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কদলপুর এলাকায় ডাকাত দলের সমবেত হওয়ার খবর পেয়ে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ ও রাউজান থানা পুলিশের একটি চৌকস দল যৌথ অভিযান চালায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর চেষ্টাকালে এই তিনজনকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়।
অনুসন্ধানে চাঞ্চল্যকর তথ্য:
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা জানান, তারা এলাকার চিহ্নিত শীর্ষ সন্ত্রাসী রায়হানের প্রত্যক্ষ সহযোগী হিসেবে কাজ করে আসছিল। সাজ্জাদ ও জাফর দীর্ঘদিন ধরে রায়হানের হয়ে স্থানীয় বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের কাছ থেকে মোটা অংকের চাঁদা আদায় এবং অবৈধ বালু উত্তোলনের টাকা তুলে মূল হোতা রায়হানের হাতে পৌঁছে দিত। অন্যদিকে, মাত্র ১৯ বছর বয়সী সাফায়েত হোসেন সিফাত এলাকায় সন্ত্রাসী রায়হানের অর্থায়নে পরিচালিত একটি ‘কিশোর গ্যাং’ এর নেতৃত্ব দিচ্ছিল। এই কিশোর গ্যাংয়ের মাধ্যমে এলাকায় চাঁদাবাজি, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও মহড়া দেওয়া হতো।
বিষয়টি নিশ্চিত করে পুলিশ কর্মকর্তা জানান, রাউজানে সন্ত্রাসী রায়হানের পুরো নেটওয়ার্ক গুঁড়িয়ে দিতে এবং জড়িত অন্য সদস্যদের আইনের আওতায় আনতে জোরালো অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আটককৃতদের বিরুদ্ধে রাউজান থানায় ডাকাতির প্রস্তুতি ও অবৈধ অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক দুটি মামলা দায়েরের পর আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।