ঢাকা
২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম
এক মন্ত্রণালয়ে একাধিক প্রতিমন্ত্রী—আইনে কি অনুমোদন আছে? মুহুরী নদীর পানি বাড়ছে হু হু করে: বাঁধ ভাঙার আশঙ্কায় নির্ঘুম ফেনীবাসী ​ শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় স্মরণ করা হচ্ছে যমুনা গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা নুরুল ইসলামকে ঢাকার পাশে ঘন ঘন ভূমিকম্প: বড় বিপদের আগাম বার্তা যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটিতে সহ-সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হলেন সিলেটের মোহাম্মদ মাকসুদ আহমেদ তাহিরপুরে হত্যা করে লাশ গুমের ঘটনায় পলাতক আসামি নারায়ণগঞ্জে গ্রেফতার বিদ্যুৎ সাশ্রয় কর্মসূচি: ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান খোলা থাকবে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত বিরল সূর্যগ্রহণে ইউরোপে উন্মাদনা হবিগঞ্জ কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু ওয়াশিংটনের সঙ্গে সমঝোতায় বিশাল ক্ষতিপূরণ পেতে যাচ্ছে ইরান

একটি কফিনের পাশে গোটা বাংলাদেশ

বাংলাদেশ মিডিয়া প্রতিবেদক
বৃহস্পতিবার, ০১ জানুয়ারি ২০২৬   ৩১৩ বার পঠিত
একটি কফিনের পাশে গোটা বাংলাদেশ

একটি কফিনের পাশে ছিল গোটা বাংলাদেশ। এই কফিনে ছিলেন দেশদরদি খালেদা জিয়া। অশ্রুসিক্ত নয়নে তাকে দেশের মানুষ শেষবিদায় জানিয়েছেন।

যে নেত্রীর একটি ডাক শোনার জন্য টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত জনতা উন্মুখ হয়ে থাকত, সেই আপসহীন খালেদা জিয়ার কণ্ঠস্বর আজ চিরদিনের জন্য থেমে গেছে। তার জন্য ঢাকার আকাশে গতকাল ছিল বিষাদের ধূসর মেঘ, আর রাজপথে মানুষের অন্তহীন শোকের সমুদ্র। মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের বিশাল চত্বর ছাপিয়ে জনস্রোত যখন মাইলের পর মাইল বিস্তৃত হচ্ছিল, তখন প্রতিটি চোখেই ছিল নোনা পানি আর হৃদয়ে হারানোর হাহাকার।

দীর্ঘ সংগ্রাম, কারাবরণ আর অসুস্থতার গ্লানি জয় করে নন্দিত নেত্রী খালেদা জিয়া চলে গেছেন চিরস্থায়ী ঠিকানায়। লাখ লাখ মানুষের গগণবিদারী ‘আল্লাহু আকবর’ ধ্বনি আর অশ্রুসিক্ত দোয়ার মধ্য দিয়ে এক ঐতিহাসিক অধ্যায় এবং একটি রাজনৈতিক কালের সমাপ্তি ঘটল। গতকাল কেবল একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রী কিংবা একটি রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেত্রীকেই বিদায় জানানো হয়নি, বরং চার দশকের বেশি সময় ধরে কোটি মানুষের আস্থায় যে বাতিঘরটি জ্বলছিল, তার বিদায় হয়েছে অগণিত মানুষের হৃদয়ছোঁয়া ভালোবাসায়।

রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে জাতীয় সংসদ ভবনের উত্তর প্লাজা সংলগ্ন জিয়া উদ্যানে স্বামী শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কবরের পাশেই এক শোকবিধুর পরিবেশে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করা হয় খালেদা জিয়াকে। এই বিদায়বেলায় তার বড় ছেলে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ঘিরে এ সময় তৈরি হয়েছিল এক হৃদয়বিদারক ও আবেগঘন পরিবেশ। লন্ডনে ১৭ বছরের নির্বাসন থেকে ফিরে কয়েকদিনের মাথায় মাকে হারানো তারেক রহমান গতকাল অশ্রুসিক্ত নয়নে দাফনকার্যে অংশ নেন। দাফনের সময় তিনি নিজেই কবরে নেমে মায়ের লাশ পরম মমতায় শায়িত করেন।

মায়ের কবরে মাটি দেওয়ার সময় তারেক রহমানের স্তব্ধ ও শোকাতুর চাহনি উপস্থিত লাখো মানুষের হৃদয়ে এক গভীর বেদনার ছাপ ফেলে। এর আগে জানাজার শুরুতে অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত বক্তৃতায় তারেক রহমান যখন বলেন, আমার মায়ের কাছে কারো কোনো ঋণ পাওনা থাকলে আমাকে জানাবেন এবং আমার মায়ের কথায় বা অন্য কোনোভাবে কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে তাকে ক্ষমা করে দেবেন, তখন উপস্থিত জনতার পক্ষ থেকে অনেকেই বলতে থাকে না, খালেদা জিয়া কাউকে কষ্ট দেননি। তিনি এমন মানুষ নন। দেশ, দেশের মাটি ও মানুষকে তিনি ভালোবেসে গেছেন।

দীর্ঘদিনের অসুস্থতা এবং রাজনৈতিক সংগ্রামের পর খালেদা জিয়ার এ প্রস্থান দেশবাসীর মাঝে গভীর আবেগ ও শূন্যতা তৈরি করেছে। খালেদা জিয়ার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের প্রতি জনগণের গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশই ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ এই জানাজা। ত্যাগ, সংগ্রাম ও ধৈর্যের যে অনুপম দৃষ্টান্ত খালেদা জিয়া দেখিয়েছেন, জনগণ এই সম্মান ও ভালোবাসার মাধ্যমে এর মূল্যই তাকে দিয়েছেন। খালেদা জিয়ার জন্য এ সম্মান মহান আল্লাহর পক্ষ থেকেই নির্ধারিত ছিল।

সৈয়দ আবদাল আহমদ- আমার দেশ

Facebook Comments Box
আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
SuMoTuWeThFrSa