ঢাকা
২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম
এক মন্ত্রণালয়ে একাধিক প্রতিমন্ত্রী—আইনে কি অনুমোদন আছে? মুহুরী নদীর পানি বাড়ছে হু হু করে: বাঁধ ভাঙার আশঙ্কায় নির্ঘুম ফেনীবাসী ​ শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় স্মরণ করা হচ্ছে যমুনা গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা নুরুল ইসলামকে ঢাকার পাশে ঘন ঘন ভূমিকম্প: বড় বিপদের আগাম বার্তা যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটিতে সহ-সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হলেন সিলেটের মোহাম্মদ মাকসুদ আহমেদ তাহিরপুরে হত্যা করে লাশ গুমের ঘটনায় পলাতক আসামি নারায়ণগঞ্জে গ্রেফতার বিদ্যুৎ সাশ্রয় কর্মসূচি: ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান খোলা থাকবে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত বিরল সূর্যগ্রহণে ইউরোপে উন্মাদনা হবিগঞ্জ কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু ওয়াশিংটনের সঙ্গে সমঝোতায় বিশাল ক্ষতিপূরণ পেতে যাচ্ছে ইরান

লাল-সবুজের বাংলাদেশেই খুঁজে নিয়েছিলেন তাঁর একমাত্র ঠিকানা

বাংলাদেশ মিডিয়া প্রতিবেদক
শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬   ১২৩ বার পঠিত
লাল-সবুজের বাংলাদেশেই খুঁজে নিয়েছিলেন তাঁর একমাত্র ঠিকানা

দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে আপসহীন এক রাজনীতিবিদ বেগম খালেদা জিয়া।

রাজপথে, মিছিলে, কখনও নত হয়নি যার চোখের দৃষ্টি।

শাসকের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে জনগণের স্বার্থে যিনি ছিলেন অকুতোভয়ী এক যোদ্ধা।

বিদেশ নয়, মাতৃভূমিই যার জীবনের শেষ ও একমাত্র ঠিকানা, তিনিই খালেদা জিয়া।

গৃহিণী থেকে রাজনীতির মঞ্চে, বেগম জিয়ার উত্থান যেমনই মহাকাব্যিক, ঠিক তেমনি অনুপ্রেরণাদায়ক।

তবে তার রাজনীতির শুরুটা ছিল আকস্মিক ও বেদনাভরা।

শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নির্মম হত্যার পর জাতীয়তাবাদী রাজনীতির হাল ধরেন বেগম খালেদা জিয়া।

১৯৮১-তে প্রাথমিক সদস্য পদ নেয়ার মধ্য দিয়ে জাতীয়তাবাদী দলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হলেও ১৯৮৪ সালে দলীয় চেয়ারপারসন হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন তিনি।

তরুণ বয়সে স্বামীহারা গৃহিণী খালেদা তখন হয়ে ওঠেন দলের কাণ্ডারি।

দলের মধ্যে ভাঙন ও বাইরের ষড়যন্ত্র সামলেছেন কাঁচা হাতে।

নির্বাচিত হন প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে।

৮৬-এর নির্বাচনে সবাই যখন সামরিক শাসকের সঙ্গে আঁতাত করে নির্বাচনে যায়, তখনও দেশ ও জনগণের প্রশ্নে সেই নির্বাচনে না যাওয়ার সিদ্ধান্তে অটল থাকেন খালেদা জিয়া।

আর এভাবেই রাজনীতিতে তিনি হয়ে ওঠেন আপসহীন নেত্রী।

শুধু তাই নয়, ৯০-এর উত্তাল সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলনে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন বেগম জিয়া।

৯১-তে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বেই সংসদীয় গণতন্ত্রে প্রবেশ করে বাংলাদেশ। আর বেগম জিয়া হন দেশের ইতিহাসের ১ম নারী প্রধানমন্ত্রী।

তবে জনপ্রিয়তাই যেন কাল হয়ে ওঠে খালেদা জিয়ার জন্য।

১/১১-এর সামরিক শাসনে ফের শুরু বিএনপিবিরোধী ষড়যন্ত্র। মাইনাস-টু ফর্মুলায় চলে বিরাজনীতিকরণের চেষ্টা।

কিন্তু বাদ দেয়া গেল না গণতন্ত্রের প্রশ্নে আপসহীন নেত্রী খালেদাকে।

অমিত সাহসী এই নেত্রীকে কাবু করতে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় বড় সন্তান তারেক রহমানকে। দেয়া হয় একের পর এক মিথ্যা মামলা।

উপযুক্ত চিকিৎসার অভাবে না-ফেরার দেশে পাড়ি দেন নাড়িছেঁড়া ধন আরাফাত রহমান কোকো।

এতকিছুর পরও নিজের আদর্শ এবং দেশের স্বার্থ কোনো কিছু থেকেই টলানো যায়নি খালেদা জিয়াকে।

তবে গণতন্ত্র ও জনগণের স্বার্থে কখনও কখনও আলোচনার টেবিলেও বসতে হয়েছে খালেদা জিয়াকে।

কারণ রাজনীতি তাঁর কাছে ছিল সংঘাতের নয়, জনগণের অধিকারের প্রশ্ন।

মধ্য আগস্টে জলপাইগুড়িতে অতি সাধারণ ঘরে জন্ম নেয়া পুতুলের অসাধারণ জীবনী হতে পারে দেশের প্রতিটি নবীন রাজনীতিকের জন্য এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত।

যার উদাহরণ মহীয়সী এই নারীর অবিস্মরণীয় শেষ বিদায়।

তবে জীবনের ওপারে গিয়েও এখনও তিনি জীবিত মিছিলে, স্লোগানে ও আলোচনার টেবিলে।

গণতন্ত্রকামী মানুষের শক্তি ও সাহস হয়ে দেশের রাজনীতিতে খালেদা জিয়া টিকে থাকবেন যুগ থেকে যুগান্তরে।

Facebook Comments Box
আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
SuMoTuWeThFrSa