রাজনীতিতে ক্ষমতার অপব্যবহার, জবাবদিহির অভাব এবং জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের মানদণ্ড নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মডেল ও রাজনীতিবিদ মেঘনা আলম। দলের নিবেদিত কর্মী শাকিলের মৃত্যুর প্রসঙ্গ তুলে তিনি প্রশ্ন করেছেন, এত প্রাণহানির পরও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে অনুশোচনা জাগে না কেন।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে নিজের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, নারী রাজনীতিবিদদের মূল্যায়ন এবং দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি নিয়ে এসব কথা বলেন তিনি।
মেঘনা আলমের দাবি, গণ অধিকার পরিষদ থেকে পদত্যাগ করে বিএনপিতে যোগ দেওয়ার সময় তাঁকে দলের নারী পরিষদ গড়ে তোলা, মেয়র নির্বাচনে অংশ নেওয়া এবং ভবিষ্যতে সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়নের সম্ভাবনা নিয়ে আশ্বস্ত করা হয়েছিল। এ ক্ষেত্রে প্রতিমন্ত্রী নূরের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
তবে পদ-পদবির চেয়ে দলের আদর্শ ধারণ করে একজন সাধারণ কর্মী হিসেবে কাজ করাকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন বলে জানান মেঘনা। তাঁর ভাষ্য, বিএনপি বড় রাজনৈতিক দল হওয়ায় সেখানে নতুন হিসেবে যথাযথ মূল্যায়ন না পাওয়ার আশঙ্কা থাকলেও দেশের কাজে নিজের আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা, রাজনৈতিক শিক্ষা ও ভাষাগত দক্ষতা কাজে লাগাতে চেয়েছিলেন তিনি।
দলীয় রাজনীতিতে কর্মীদের ভূমিকার গুরুত্ব তুলে ধরে মেঘনা বলেন, কর্মীরাই নেতার আদর্শ ও বক্তব্য মানুষের কাছে পৌঁছে দেন। তাঁদের নিঃস্বার্থ অংশগ্রহণ ছাড়া নেতৃত্বের পদ বা ক্ষমতার প্রকৃত মূল্য থাকে না।
বিএনপির একজন সংসদ সদস্যের সন্তানের হাতে দলের কর্মী শাকিলের প্রাণহানি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এ ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে রাজনৈতিক প্রভাবের ব্যবহার, বিচার এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করার বিষয়ে প্রশ্ন তোলেন মেঘনা। তবে তাঁর পোস্টে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা যায়নি।
নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে মেঘনা অভিযোগ করেন, রাজনীতিতে আসতে আগ্রহী নারীদের অনেক সময় তাঁদের যোগ্যতার পরিবর্তে ব্যক্তিগত জীবন, সৌন্দর্য, পোশাক, বিয়ে ভেঙে যাওয়া কিংবা গণমাধ্যমে কাজ করার অভিজ্ঞতা দিয়ে বিচার করা হয়।
রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করে তাঁকে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। তাঁর মতে, ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে আলোচনা বা কটাক্ষের পরিবর্তে নারীদের মেধা, যোগ্যতা ও জনসেবার আগ্রহকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
পোস্টে যৌন নিপীড়ন, ক্ষমতার অপব্যবহার, চাঁদাবাজি, ঋণখেলাপি এবং সংসদে বিতর্কিত বক্তব্যসহ বিভিন্ন অনিয়মের প্রসঙ্গ তুলে জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের মানদণ্ড নিয়ে প্রশ্ন তোলেন মেঘনা।
তাঁর মতে, সংসদে যাওয়ার যোগ্যতা নির্ধারণে বাহ্যিক ধর্মীয় পরিচয়, বয়স কিংবা দলীয় আনুগত্যের চেয়ে মেধা, যোগ্যতা ও মানবিকতাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
পোস্টের শেষাংশে জনগণের রাজনৈতিক সচেতনতা এবং জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের মানদণ্ড নিয়ে প্রশ্ন তুলে মেঘনা লেখেন, ‘আপনারা কবে শিখবেন? কবে বদলাবেন?’
একই সঙ্গে নিহত শাকিলের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে তাঁর জন্য জান্নাতের দোয়া করেন এই মডেল ও রাজনীতিবিদ।


মন্তব্য করুন