
আট দফা দাবিতে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-রংপুর লংমার্চ আজ শনিবার। সকাল ৭টায় রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে উদ্বোধনী সমাবেশের মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শুরু হবে। পরে সকাল ৮টায় রংপুরের উদ্দেশে গাড়িবহর যাত্রা করার কথা রয়েছে।
লংমার্চের সমাপনী সমাবেশ হবে রংপুর জিলা স্কুল মাঠে। সেখানে তিন থেকে পাঁচ লাখ মানুষের সমাগমের প্রত্যাশা করছেন জোটের নেতারা। তাঁদের দাবি, পথে বিভিন্ন জেলা থেকে গাড়ি যুক্ত হয়ে বহরে এক হাজারের বেশি যানবাহন থাকতে পারে।
৫ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম অভিমুখী লংমার্চের পর এটি ১১ দলীয় ঐক্যের দ্বিতীয় বড় কর্মসূচি। রংপুরের কর্মসূচিতে জাতীয় দাবির পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিও যুক্ত করা হয়েছে।
লংমার্চের আট দফা দাবির মধ্যে রয়েছে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ-জ্বালানি তেল-গ্যাস ও সারের সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি রোধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, দলীয়করণ বন্ধ, দুর্নীতি-দখলবাজি-চাঁদাবাজি বন্ধ এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন।
জোটের নেতারা বলছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রংপুর বিভাগের ৩৩টি আসনের মধ্যে জামায়াত ১৭টি এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) দুটি আসনে জয় পেয়েছে। বিএনপি পেয়েছে ১৩টি আসন। এই ফলাফলের কারণে রংপুরে জোটের সাংগঠনিক অবস্থান তুলে ধরতেও কর্মসূচিটিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
লংমার্চের পথে গাজীপুরের ভোগরা বাইপাস, টাঙ্গাইলের নগর জালফৈ, সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল, বগুড়ার মাটিডালি ও গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে পথসভা হওয়ার কথা রয়েছে। এসব কর্মসূচিতে ১১ দলের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য দেবেন। সন্ধ্যা ৭টায় রংপুর জিলা স্কুল মাঠে হবে সমাপনী সমাবেশ।
লংমার্চ শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে সরকার ও প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়েছে জোট। নেতা-কর্মীদেরও কোনো ধরনের উসকানিতে পা না দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সম্ভাব্য জনদুর্ভোগের জন্য আগাম দুঃখ প্রকাশ করেছেন জোটের নেতারা।
এর আগে ৫ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম অভিমুখে লংমার্চ করেছে ১১ দলীয় ঐক্য। পূর্বঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ৩১ অক্টোবর খুলনা এবং ২১ নভেম্বর সিলেট অভিমুখেও লংমার্চ করার কথা রয়েছে।