বিএনপির আইনমন্ত্রী মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেছেন, তিনটি আসন আমরা হারিয়েছি কিছু বেইমান ও মুনাফিকের কারণে। তাদের দেখতে অবিকল মানুষের মতো এবং আচরণও বিএনপির মতো। তারা যদি মনে করেন, তাদের আমলনামা আমাদের কাছে নেই তাহলে ভুল করবেন।
১৫ সেপ্টেম্বর বিকেলে বাগেরহাট জেলা পরিষদ অডিটোরিয়াম, শালতলায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেছিলেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, তিনটি আসন হারানোর পেছনে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শের কোনো ঘাটতি ছিল না, বেগম খালেদা জিয়ার শিক্ষার কোনো অভাব ছিল না এবং তারেক রহমানের নেতৃত্বের কোনো অযোগ্যতা ছিল না। কিছু নেতাকর্মীর বিশ্বাসঘাতকতার কারণে আসনগুলোতে পরাজয় হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি বলেন, বিএনপির রাজনীতিতে এমন অনেক ব্যক্তি রয়েছেন, যারা দিনে বিএনপি ও রাতে জামায়াতের রাজনীতি করেছেন। তাদের অতীত কর্মকাণ্ড দলের কাছে অজানা নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে নেতাকর্মীদের জন্য একটি ‘টেস্ট পরীক্ষা’ হিসেবে উল্লেখ করে আসাদুজ্জামান বলেন, এই নির্বাচনের মাধ্যমে দেখা যাবে কারা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে বিশ্বাস করেন এবং দলের মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করেন।
দলীয় মনোনয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, উপস্থিত নেতাকর্মীদের অনেকেরই সংসদ সদস্য, ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান কিংবা পৌরসভার মেয়র হওয়ার যোগ্যতা রয়েছে। তবে নির্বাচনে একজনই প্রার্থী হবেন। দলের নেতৃত্বের দায়িত্ব হলো সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্য থেকে এমন একজনকে বেছে নেওয়া, যিনি ভোটের মাঠে জনগণের সমর্থন নিয়ে বিজয় নিশ্চিত করতে সক্ষম।
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন দলের জন্য কাজ করা, মামলা-হামলা ও কারাভোগের ইতিহাস একজন নেতার যোগ্যতার অংশ হতে পারে তবে নির্বাচনের মাঠে জনগণের কাছে গিয়ে তাদের সমর্থন অর্জন করাই মূল বিষয়। তাই দলীয় স্বার্থে যোগ্য প্রার্থীর পক্ষে সবাইকে কাজ করতে হবে।
দলের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার প্রসঙ্গ তুলে আইনমন্ত্রী মান্নান ভূঁইয়া ও ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমরের রাজনৈতিক অবস্থানের উদাহরণ দেন। তার দাবি, দলীয় বিশ্বাসঘাতকতার মাধ্যমে কেউ শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিকভাবে লাভবান হয়নি এবং ভবিষ্যতেও হবে না।
বিএনপির নেতাকর্মীদের দীর্ঘ ১৭ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ওই সময়ে আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর মামলা, হামলা, নির্যাতন ও গ্রেপ্তারের অভিযোগ রয়েছে। তার দাবি, অসংখ্য নেতাকর্মী হত্যার শিকার হয়েছেন এবং প্রায় ৭০০ সহযোদ্ধাকে গুম করা হয়েছিল। এছাড়া ৬০ লাখ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা ও ‘গায়েবি’ মামলা দেওয়া হয়েছিল বলেও তিনি দাবি করেন।
সবশেষে নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, দলের আদর্শ ধারণ করে সংগঠনকে শক্তিশালী করতে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।