
চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের সময় ইন্টারনেট ধীর করার নির্দেশ সংক্রান্ত একটি ফোনালাপ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করেছে প্রসিকিউশন।
রোববার (৯ আগস্ট) আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ও তৎকালীন আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের ওই ফোনালাপ মামলার নথিতে দাখিল করা হয়।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির বিরুদ্ধে চলমান মামলায় কল রেকর্ডটি উপস্থাপন করা হচ্ছে।
যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের সময় ট্রাইব্যুনালে এটি শোনানো হবে।
বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ মামলাটির বিচারকাজ পরিচালনা করছেন।
ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
ফোনালাপে ওবায়দুল কাদেরকে পলকের সঙ্গে ইন্টারনেট ধীর করার বিষয়ে কথা বলতে শোনা যায়।
থোপকথনে ওবায়দুল কাদের ইন্টারনেট ‘স্লো’ করে দেওয়ার কথা বলেন।
বাবে পলক জানান, এ বিষয়ে ‘নেত্রীর পারমিশন’ নেওয়া হবে। ওবায়দুল কাদের তাকে অনুমতি নেওয়ার কথা বলেন।
প্রসিকিউশনের দাবি, গণঅভ্যুত্থানের সময় ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে আন্দোলন দমনের চেষ্টা করা হয়েছিল।
দের অভিযোগ, একপর্যায়ে কয়েক দিনের জন্য দেশে ইন্টারনেট পুরোপুরি বন্ধও রাখা হয়।
মামলায় ওবায়দুল কাদের ছাড়াও আসামি হিসেবে রয়েছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল এবং ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান।
এর আগে ৬ আগস্ট ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দাম হোসেনের আরেকটি ফোনালাপ ট্রাইব্যুনালে দাখিল করে প্রসিকিউশন।
ওই কথোপকথনে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে সহিংসতায় উসকানি দেওয়ার প্রমাণ রয়েছে বলে দাবি করেছে তারা।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হন এবং দেশ ছাড়েন।
