
২০২৭ সালের হজের সরকারি ও বেসরকারি প্যাকেজ ঘোষণা করেছে সরকার। সরকারি সাশ্রয়ী প্যাকেজের খরচ নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ লাখ ৫ হাজার ৬৪৮ টাকা। প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে বিমান ভাড়া ২৪ হাজার ৮৩০ টাকা কমানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ।
আগামী বছরের (২০২৭) হজের সরকারি ও বেসরকারি প্যাকেজ এবং হজ ব্যবস্থাপনা-সংক্রান্ত গাইডলাইন ঘোষণা করেছে সরকার। সরকারি মাধ্যমে দুটি এবং বেসরকারি মাধ্যমে তিনটি হজ প্যাকেজ নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে সরকারি সাশ্রয়ী (হজ প্যাকেজ-২) প্যাকেজের খরচ ধরা হয়েছে ৫ লাখ ৫ হাজার ৬৪৮ টাকা এবং সরকারি হজ প্যাকেজ-১-এর খরচ ৬ লাখ ১৫ হাজার ২৬৩ টাকা।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ এসব তথ্য জানান।
বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় বিশেষ হজ প্যাকেজের খরচ নির্ধারণ করা হয়েছে সর্বোচ্চ ৭ লাখ ৯১ হাজার ৬০ টাকা। সাধারণ প্যাকেজের খরচ ৫ লাখ ৯৫ হাজার টাকা এবং সর্বনিম্ন প্যাকেজের খরচ ৫ লাখ ১৩ হাজার ৬৪৮ টাকা।
ধর্মমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে ২০২৭ সালের হজে বিমান ভাড়া ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ২৪ হাজার ৮৩০ টাকা কম। তিনি বলেন, এ উদ্যোগ হজযাত্রীদের ব্যয় কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তিনি আরও জানান, ২০২৭ সালের হজে সৌদি আরব আবাসন, পরিবহন, ক্যাটারিং, তাঁবু ও অন্যান্য সেবাকে সমন্বিত প্যাকেজের আওতায় এনেছে। আগের চারটি সার্ভিস প্যাকেজের পরিবর্তে এবার তিনটি সার্ভিস প্যাকেজ থাকবে এবং হাফ বোর্ড ক্যাটারিং বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এতে হজযাত্রীদের সেবার মান আরও উন্নত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
হজ প্যাকেজের ব্যয় প্রসঙ্গে ধর্মমন্ত্রী বলেন, ২০২৬ সালের সর্বনিম্ন প্যাকেজে খাবারের খরচ অন্তর্ভুক্ত ছিল না। কিন্তু এবার ক্যাটারিং বাধ্যতামূলক হওয়া, সার্ভিস প্যাকেজে পরিবর্তন এবং সৌদি রিয়ালের বিনিময় হার বৃদ্ধির কারণে অতিরিক্ত ৬৬ হাজার ৫৭৪ টাকা ব্যয় যুক্ত হয়েছে। তবে এসব সমন্বয় করে তুলনা করলে সরকারি সাশ্রয়ী প্যাকেজে গত বছরের তুলনায় ২৮ হাজার ৬৩ টাকা কম ব্যয় হবে।
প্রবাসী বাংলাদেশি হজযাত্রীদের জন্যও নতুন সুবিধার কথা জানান ধর্মমন্ত্রী। তিনি বলেন, ২০২৭ সালের হজে বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশিরা সংশ্লিষ্ট দেশেই স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও টিকা গ্রহণ করে ভিসার আবেদন করতে পারবেন। পাশাপাশি তারা যেন অবস্থানরত দেশ থেকেই সরাসরি সৌদি আরবে যেতে পারেন, সে বিষয়েও সরকার কাজ করছে।
সরকারি হজ প্যাকেজ-১-এর আওতায় মক্কায় হারাম শরিফ থেকে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৪০০ মিটারের মধ্যে এবং মদিনায় মারকাজিয়া এলাকায় আবাসনের ব্যবস্থা থাকবে। মিনায় জোন-২-এ তাঁবু এবং মিনা-আরাফায় সার্ভিস প্যাকেজ-৩ অনুযায়ী সেবা ও খাবার দেওয়া হবে। সাধারণত সৌদি আরবে অবস্থানকাল হবে ৩৫ থেকে ৪০ দিন। অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধের মাধ্যমে রুম আপগ্রেড ও স্বল্পমেয়াদি প্যাকেজ সুবিধাও নেওয়া যাবে।
অন্যদিকে সরকারি সাশ্রয়ী প্যাকেজে মক্কায় হারাম শরিফ থেকে ২ থেকে ৩ কিলোমিটারের মধ্যে এবং মদিনায় মারকাজিয়া এলাকার বাইরে, মসজিদে নববী থেকে ৮০০ মিটারের মধ্যে আবাসনের ব্যবস্থা থাকবে। হোটেল দুই কিলোমিটারের বেশি দূরে হলে সৌদি সরকারের বিধান অনুযায়ী সালাওয়াত বাসের ব্যবস্থা করা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ২০২৭ সালের ৮ এপ্রিল হজ ফ্লাইট শুরু হবে এবং ১৫ মে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হবে।
