
প্রতি বছর ১৩ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক সেপসিস দিবস পালিত হয়। সেপসিস সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো, এর বিপদসংকেত চিহ্নিত করা এবং দ্রুত চিকিৎসার গুরুত্ব তুলে ধরাই দিবসটির অন্যতম উদ্দেশ্য।
সেপসিস হলো সংক্রমণের বিরুদ্ধে শরীরের প্রতিরোধব্যবস্থার অস্বাভাবিক প্রতিক্রিয়ায় সৃষ্ট একটি গুরুতর ও জীবনহানিকর অবস্থা। এতে শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। সময়মতো চিকিৎসা না হলে দ্রুত অবস্থার অবনতি হয়ে সেপটিক শক পর্যন্ত হতে পারে।
যেসব সংক্রমণ থেকে সেপসিস হতে পারে
ফুসফুসের সংক্রমণ বা নিউমোনিয়া, মূত্রনালি ও কিডনির সংক্রমণ, পেটের ভেতরের সংক্রমণ, ত্বক ও নরম টিস্যুর সংক্রমণ, অস্ত্রোপচারের ক্ষত এবং রক্তপ্রবাহের সংক্রমণ থেকে সেপসিসের সূত্রপাত হতে পারে।
নবজাতক ও শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি, রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কম এমন মানুষ, ডায়াবেটিস বা দীর্ঘমেয়াদি কিডনি-ফুসফুসের রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি, ক্যানসার রোগী এবং সম্প্রতি বড় অস্ত্রোপচার বা গুরুতর আঘাত পাওয়া ব্যক্তিদের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি।
বিপদসংকেত চিনুন
সংক্রমণের সঙ্গে জ্বর বা শরীরের তাপমাত্রা অস্বাভাবিক কমে যাওয়া, কাঁপুনি, দ্রুত শ্বাস নেওয়া, শ্বাসকষ্ট, হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া, প্রচণ্ড দুর্বলতা, মাথা ঘোরা, বিভ্রান্তি, ত্বক ঠান্ডা বা ঘামযুক্ত হয়ে যাওয়া এবং প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে।
বিশেষ করে এসব লক্ষণের কয়েকটি একসঙ্গে দেখা দিলে দেরি না করে জরুরি চিকিৎসা নিতে হবে। শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে লক্ষণ সবসময় স্পষ্ট নাও হতে পারে। তাদের আচরণ, খাওয়াদাওয়া, শ্বাস-প্রশ্বাস ও প্রস্রাবের স্বাভাবিকতার পরিবর্তনও গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হবে।
সেপটিক শক মারাত্মক ঝুঁকি
সেপসিসের গুরুতর জটিলতা হলো সেপটিক শক। এ অবস্থায় রক্তচাপ বিপজ্জনকভাবে কমে গিয়ে শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলো পর্যাপ্ত রক্ত ও অক্সিজেন থেকে বঞ্চিত হতে পারে। ফলে কিডনি, ফুসফুস, হৃদ্যন্ত্র ও মস্তিষ্কসহ একাধিক অঙ্গের কার্যক্ষমতা ব্যাহত হতে পারে।
সেপসিসের চিকিৎসা হাসপাতালে চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে করা হয়। সংক্রমণের উৎস নিয়ন্ত্রণ, প্রয়োজন অনুযায়ী অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল চিকিৎসা, শিরায় তরল, অক্সিজেন, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ এবং অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ চিকিৎসার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
অ্যান্টিবায়োটিকে সতর্কতা
ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণে অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োজন হতে পারে। তবে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক শুরু করা, মাঝপথে বন্ধ করা বা অন্যের প্রেসক্রিপশন অনুসরণ করা উচিত নয়। অপ্রয়োজনীয় ব্যবহারে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স তৈরি হতে পারে।
প্রতিরোধে করণীয়
সেপসিস প্রতিরোধের গুরুত্বপূর্ণ উপায় হলো সংক্রমণ প্রতিরোধ করা। নিয়মিত হাত ধোয়া, প্রয়োজনীয় টিকা নেওয়া, কাটা-ছেঁড়া ও ক্ষতের যথাযথ যত্ন, দীর্ঘমেয়াদি রোগ নিয়ন্ত্রণ এবং সংক্রমণের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো—সংক্রমণের সঙ্গে রোগীর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হলে অপেক্ষা না করা। শ্বাসকষ্ট, চেতনার পরিবর্তন, প্রচণ্ড দুর্বলতা, প্রস্রাব কমে যাওয়া বা ঠান্ডা-ঘামযুক্ত ত্বকের মতো লক্ষণ দেখা দিলে রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে।
সচেতনতা, বিপদসংকেত দ্রুত শনাক্ত করা এবং সময়মতো হাসপাতালে পৌঁছানো—সেপসিসে জীবন রক্ষার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
