যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরু করতে মধ্যস্থতাকারীদের তৎপরতার মধ্যে ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করতে তেহরানে পৌঁছেছে কাতারের একটি প্রতিনিধিদল।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) কাতারের প্রধানমন্ত্রীর একজন জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টার নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলটি ইরানে পৌঁছায়। দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনার বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে এএফপি। প্রতিনিধিদলটি ইরানের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করবে।

এ সফরের এক দিন আগে ইরানি গণমাধ্যম জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের পাঠানো একটি চিঠি পেয়েছে তেহরান। চিঠিটি ইরানের নিরাপত্তাপ্রধান মোহসেন রেজায়ির উদ্দেশে পাঠানো হয়েছে। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এতে শান্তিচুক্তির নির্দিষ্ট শর্তের চেয়ে সম্ভাব্য আলোচনার কাঠামোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

গত এপ্রিলে যুদ্ধবিরতি চুক্তির পর শান্তি আলোচনা পুনরুজ্জীবিত করতে কাতার ও পাকিস্তান মধ্যস্থতা করছে। এরই মধ্যে পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারাও তেহরান সফর করেছেন। মঙ্গলবার মস্কোয় কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধ শুরু হয়। জবাবে ইরান ইসরায়েল ও অঞ্চলজুড়ে মার্কিন স্থাপনায় হামলা চালায় এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেয়। বিশ্বের মোট তেল ব্যবহারের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে পরিবহন করা হয়।

বুধবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি জানান, যুদ্ধের অবসান ও হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার লক্ষ্যে কাতার ও পাকিস্তানের সঙ্গে একটি পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করছে তেহরান।

অন্যদিকে ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এতে দেশটির তেল রপ্তানি ও বাণিজ্য কার্যক্রম আরও সীমিত হয়েছে। হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিনিময়ে তেহরান মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুদ্ধবিরতি, বিদেশে জব্দ করা সম্পদ অবমুক্ত, তেল খাতের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং মার্কিন নৌ-অবরোধ তুলে নেওয়াসহ সাতটি শর্ত পূরণের দাবি জানিয়ে আসছে।