
রাজস্ব আদায়ে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম কাস্টমস। তবে বছরের পর বছর ধরে আদালতে ঝুলে থাকা মামলার কারণে আটকে আছে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব। চট্টগ্রাম কাস্টমসের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় সাড়ে ১০ হাজার মামলায় আটকে আছে আড়াই হাজার কোটি টাকার বেশি।
এর মধ্যে শুধু হাইকোর্টে ৯ হাজার ২৮৩টি মামলায় আটকে আছে ২ হাজার ২৫৮ কোটি টাকা। আর কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট আপিল ট্রাইব্যুনালে ৮৬৩টি মামলায় আটকে আছে ২৮১ কোটি টাকার বেশি।
দীর্ঘদিন মামলা নিষ্পত্তি না হওয়ায় ব্যবসায়ীদেরও পড়তে হচ্ছে নানা জটিলতায়। মামলা পরিচালনার খরচ, কনটেইনার ড্যামারেজসহ বিভিন্ন কারণে পণ্যের ব্যয় বাড়ছে বলে অভিযোগ ব্যবসায়ীদের।
ওয়ারদা অ্যান্ড জুবায়ের এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ইয়াসির আরাফাত বলেন, মামলার পেছনে তার ১৫ থেকে ১৬ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। আট লাখ টাকার পণ্য কনটেইনার ড্যামারেজসহ ৪০ লাখ টাকার বেশি খরচে দাঁড়িয়েছে।
এদিকে কাস্টমসের আইন শাখার মাত্র ২০টি মামলাতেই আটকে আছে ১৩৫ কোটি টাকার বেশি। প্রায় ১০ হাজার মামলা পরিচালনার জন্য বছরে বরাদ্দ মাত্র ২ লাখ টাকা। এসব মামলা পরিচালনায় আইন শাখায় কর্মরত আছেন মাত্র ৭ থেকে ৮ জন।
চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের সহকারী কমিশনার শরীফ মোহাম্মদ আল আমিন বলেন, কোনো পক্ষ যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত হয়, সে কারণে মামলা নিষ্পত্তিতে সময় লাগে। মামলা নিষ্পত্তি হলে আটকে থাকা রাজস্ব আদায় করা সম্ভব হবে এবং সরকারের আয় বাড়বে।
তবে শিপিং এজেন্টরা বলছেন, আইনের সঠিক প্রয়োগ ও পণ্য খালাসের প্রক্রিয়া সহজ করা গেলে দ্রুত মামলা নিষ্পত্তির পাশাপাশি রাজস্ব আদায়ও বাড়ানো সম্ভব।
চট্টগ্রাম কাস্টম এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক কাজী মাহমুদ ইমাম বিলু বলেন, কাস্টমসের কর্মকর্তাদের নিয়ে পৃথক একটি ইউনিট গঠন করে শুধু পুরোনো মামলার ফাইল যাচাই ও নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। এতে সরকার ও ব্যবসায়ী—দুই পক্ষই লাভবান হবে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পুরোনো মামলাজট দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ না নিলে বিপুল রাজস্ব আটকে থাকার পাশাপাশি পণ্য নষ্ট ও ব্যবসায়ীদের ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।
