ঢাকা
২১ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম
মুহুরী নদীর পানি বাড়ছে হু হু করে: বাঁধ ভাঙার আশঙ্কায় নির্ঘুম ফেনীবাসী ​ শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় স্মরণ করা হচ্ছে যমুনা গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা নুরুল ইসলামকে ঢাকার পাশে ঘন ঘন ভূমিকম্প: বড় বিপদের আগাম বার্তা যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটিতে সহ-সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হলেন সিলেটের মোহাম্মদ মাকসুদ আহমেদ তাহিরপুরে হত্যা করে লাশ গুমের ঘটনায় পলাতক আসামি নারায়ণগঞ্জে গ্রেফতার বিদ্যুৎ সাশ্রয় কর্মসূচি: ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান খোলা থাকবে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত বিরল সূর্যগ্রহণে ইউরোপে উন্মাদনা হবিগঞ্জ কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু ওয়াশিংটনের সঙ্গে সমঝোতায় বিশাল ক্ষতিপূরণ পেতে যাচ্ছে ইরান চট্টগ্রাম শাহ আমানতে যৌথ অভিযান

আবিদা সুলতানা হত্যা মামলায় রুবেলের মৃত্যুদণ্ড

বাংলাদেশ মিডিয়া প্রতিবেদক
সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬   ৪১ বার পঠিত
আবিদা সুলতানা হত্যা মামলায় রুবেলের মৃত্যুদণ্ড

চট্টগ্রামের পাহাড়তলীতে স্কুলছাত্রী আবিদা সুলতানা ঐনী হত্যা মামলায় মো. রুবেলকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

সোমবার চট্টগ্রাম নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২-এর বিচারক মো. সাইফুর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন।

২০২৩ সালের ২৯ মার্চ সকালে নগরের সাগরিকা বাইলেন এলাকার একটি পোলট্রি ফার্ম ও আলমতারা পুকুরের পাশের একটি ডোবা থেকে ১০ বছর বয়সী ঐনীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঐনী পাহাড়তলীর আবদুল হাদি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। সে পরিবারের সঙ্গে একই এলাকার আবদুর কাজীর পুকুরপাড় এলাকায় বসবাস করত।

ঐনীর মা বিবি ফাতেমা একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন। তার বাবা ঢাকার একটি পোশাক কারখানায় কর্মরত ছিলেন।

মামলার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ২১ মার্চ সন্ধ্যার পর থেকে ঐনীর সঙ্গে পরিবারের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। থানায় সাধারণ ডায়েরি করেও কোনো সন্ধান না পাওয়ায় পরদিন তার মা আদালতে অপহরণের মামলা করেন। আদালতের নির্দেশে পাহাড়তলী থানায় অভিযোগটি মামলা হিসেবে গ্রহণ করা হয়।

মামলায় প্রতিবেশী সবজি বিক্রেতা মো. রুবেলকে (৩৫) আসামি করা হয়। পরে তাকে আটক করার পর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) তদন্তে ঐনীর মরদেহের সন্ধান পাওয়া যায়।

মামলার এজাহারে ঐনীর মা উল্লেখ করেন, ঘটনার কয়েক দিন আগে স্কুলের এক সহপাঠীর কাছে বিড়ালছানা দেখে ঐনী একটি বিড়ালছানা কিনে দেওয়ার আবদার করেছিল। তখন মা জানিয়েছিলেন, বেতন পাওয়ার পর তিনি তাকে বিড়ালছানা কিনে দেবেন। এরপর ঐনী জানিয়েছিল, এলাকার এক সবজি বিক্রেতা তাকে বিড়ালছানা এনে দিতে পারবেন।

তদন্তে জানা যায়, ২০২৩ সালের ২০ মার্চ রাস্তায় বিড়ালছানা ধরতে গিয়ে ঐনীর সঙ্গে রুবেলের সবজিবাহী ভ্যানের ধাক্কা লাগে। এ সময় রুবেল প্রায় পাঁচ মিনিট তার সঙ্গে কথা বলেন এবং বিড়ালছানা এনে দেওয়ার কথা বলেন।

পরদিন ২১ মার্চ রুবেল আবার ঐনীর সঙ্গে দেখা করেন। বিড়ালছানা দেওয়ার কথা বলে তাকে একটি খালি ফ্ল্যাটে নিয়ে যান। পিবিআইয়ের তদন্ত অনুযায়ী, ওই ফ্ল্যাটে ঐনীকে নির্যাতনের চেষ্টা করা হয়। শিশুটি চিৎকার করে বের হওয়ার চেষ্টা করলে রুবেল তাকে ভয় দেখান। পরে ঘটনা প্রকাশ পাওয়ার আশঙ্কায় তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়।

গ্রেপ্তারের পর পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে রুবেল হত্যার দায় স্বীকার করেন এবং ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দেন। তিনি জানান, ২১ মার্চ বিকেল সাড়ে ৫টা থেকে ৬টার মধ্যে ঐনীকে হত্যা করা হয়।

পুলিশ জানায়, ঘটনার দিন সন্ধ্যায় রুবেলও অন্য প্রতিবেশীদের সঙ্গে ঐনীকে খুঁজতে বের হয়েছিলেন। পরে রাতের দিকে লোকজন কমে গেলে তিনি ওই ফ্ল্যাটে ফিরে মরদেহ একটি বস্তায় ভরে আলমতারা পুকুরের পাশের ডোবায় ফেলে দেন।

রুবেল এক ছেলে ও এক মেয়ের বাবা। তিনি কাজীর দীঘির কাছে বসবাস করতেন এবং ভ্যানে করে সবজি বিক্রি করতেন। নিহত ঐনীও একই এলাকার বাসিন্দা ছিল এবং তার মা ও দাদির সঙ্গে বসবাস করত।

Facebook Comments Box
আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
SuMoTuWeThFrSa