
কলেজের ছুটিতে বান্দরবানের নাফাখুম ও অমিয়াখুম ঝরনা দেখতে গিয়ে টানা ভারী বৃষ্টিতে দুর্গম পাহাড়ে ৯ দিন আটকা পড়েন ঢাকার চার শিক্ষার্থী। স্থানীয় বাসিন্দা, গাইড ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর সহায়তায় শেষ পর্যন্ত তাঁরা নিরাপদে ফিরে আসেন।
আটকে পড়া চারজন হলেন আবু হুরায়রা (১৮), মারুফ উদ্দিন (১৯), তামিম রায়হান (১৯) ও মাহাদি আল মাহবুব (১৮)। তাঁরা সবাই পুরান ঢাকার বাসিন্দা এবং বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থী।
জানা যায়, গত ২ জুলাই চার বন্ধু বান্দরবানের থানচি উপজেলার নাফাখুম ভ্রমণে যান। পরদিন নাফাখুম ঘুরে ৪ জুলাই স্থানীয় গাইড শিমন খিয়াংকে সঙ্গে নিয়ে অমিয়াখুমের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। পথে থুইসাপাড়ায় পৌঁছানোর পর টানা ভারী বর্ষণে পাহাড়ি ঢলে ফেরার পথ তলিয়ে যায়। ফলে গাইডের পরিচিত এক পাহাড়ি পরিবারের জুমঘরে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন তাঁরা।
মোবাইল নেটওয়ার্ক ও বিদ্যুৎবিহীন ওই দুর্গম এলাকায় টানা সাত দিন অবস্থান করতে হয় চার বন্ধুকে। পরে কাছের জিন্নাপাড়ায় একটি স্টারলিংক ইন্টারনেট সংযোগের মাধ্যমে পরিবারের সদস্যদের কাছে সংক্ষিপ্ত বার্তা পাঠিয়ে তাঁরা জানান, “আমরা বেঁচে আছি, থুইসাপাড়ায় আটকে আছি।”
পরিস্থিতির অবনতি হলে তাঁরা স্থানীয় বিজিবি ক্যাম্পে যোগাযোগ করেন। টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে তাৎক্ষণিক উদ্ধার অভিযান সম্ভব না হলেও আবহাওয়া কিছুটা অনুকূলে এলে ১১ জুলাই ৩৮ বিজিবির একটি দল উদ্ধার অভিযান শুরু করে।
দুর্গম পাহাড়ি পথ, ভূমিধস ও খরস্রোতা ঝরনা অতিক্রম করে দুই দিনের অভিযানে বিজিবি সদস্যরা চার পর্যটককে নিরাপদে থানচিতে নিয়ে আসেন। ১৩ জুলাই তাঁরা আলীকদম ও চকরিয়া হয়ে ঢাকায় ফিরে যান।
উদ্ধার হওয়া শিক্ষার্থী আবু হুরায়রা বলেন, “শুরুতে এটি ছিল একটি সাধারণ ভ্রমণ। কিন্তু টানা বৃষ্টি ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় সেটি জীবনের সবচেয়ে ভয়াবহ অভিজ্ঞতায় পরিণত হয়। স্থানীয় বাসিন্দা, গাইড ও বিজিবির আন্তরিক সহযোগিতা না পেলে হয়তো নিরাপদে ফিরতে পারতাম না।”
থানচি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কানন সরকার জানান, টানা বৃষ্টিতে সাঙ্গু নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় চার পর্যটক নিরাপদে ফিরতে পারেননি। পরে উপজেলা প্রশাসন ও বিজিবির সমন্বয়ে তাঁদের উদ্ধার করা হয়।
থানচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ আবদুল্লাহ-আল-ফয়সাল বলেন, বৈরী আবহাওয়ার কারণে উদ্ধার অভিযান বিলম্বিত হলেও জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন, ৩৮ বিজিবি, স্থানীয় গাইড ও পাহাড়ি বাসিন্দাদের সমন্বিত প্রচেষ্টায় চার পর্যটককে সফলভাবে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।