
বিদেশি রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে একান্ত বা দ্বিপক্ষীয় বৈঠক না করার যে নীতি এত দিন অনুসরণ করে আসছিলেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ, এবার সেই নিয়ম থেকে সরে আসছেন তিনি।
কূটনৈতিক সূত্র ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি সপ্তাহে ভারত ও চীনের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে পৃথক বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন শাহ। বৈঠকের নির্দিষ্ট তারিখ এখনো ঘোষণা করা হয়নি, তবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে তা অনুষ্ঠিত হবে বলে জানা গেছে।
দায়িত্ব নেওয়ার পর নেপালের প্রচলিত কূটনৈতিক রীতিতে পরিবর্তন এনে শাহ বিদেশি রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে একক বৈঠক এড়িয়ে চলেছিলেন। এর পরিবর্তে গত ৯ এপ্রিল ও ২৬ মে কাঠমান্ডুতে নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে যৌথ বৈঠক করেন তিনি।
শাহের এই উদ্যোগকে নেপালের কূটনীতিক, পররাষ্ট্রনীতি বিশ্লেষক ও পর্যবেক্ষকেরা স্বচ্ছতা ও সমতার ভিত্তিতে নতুন কূটনৈতিক পদ্ধতি হিসেবে স্বাগত জানিয়েছিলেন।
তবে এবার সেই অবস্থান থেকে কিছুটা সরে এসে তিনি পৃথক বৈঠকের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর এক সহকারী জানান, গত দুই সপ্তাহ ধরে শাহ দেশের বিভিন্ন অংশীজন—ব্যবসায়ী, শিল্পপতি, ঠিকাদার ও রপ্তানিকারকদের সঙ্গে বৈঠক করছেন। এর ধারাবাহিকতায় বিদেশি কূটনীতিকদের সঙ্গেও আলোচনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, নেপালের পররাষ্ট্রনীতিতে ভারত ও চীনের গুরুত্ব বিবেচনায় এই দুই দেশের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠক দিয়েই কার্যক্রম শুরু করা হচ্ছে।
সূত্র জানায়, নয়াদিল্লি ও বেইজিংয়ের সঙ্গে সমান গুরুত্বের সম্পর্কের বার্তা দিতে একই দিনে ভারতের রাষ্ট্রদূত নবীন শ্রীবাস্তব এবং চীনের রাষ্ট্রদূত ঝাং মাওমিংয়ের সঙ্গে বৈঠকের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর শাহ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন কূটনীতিকের সঙ্গেও বৈঠক করতে রাজি হননি। নেপাল সফরে আসা মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাতের অনুরোধও তিনি প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।
নেপালের প্রচলিত রীতি অনুযায়ী, নতুন প্রধানমন্ত্রীদের দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই বিদেশি রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করতে দেখা যায়। তবে শাহ শুরু থেকেই এ ক্ষেত্রে ভিন্ন নীতি অনুসরণ করে আসছিলেন।