
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে মায়ের হাত ধরে চলার সময় ০৬ বছরের এক কন্যাশিশুর উপর অতর্কিত আক্রমণ চালিয়েছে একটি হিংস্র কুকুর।
কুকুরের কামড়ে শিশুটির শরীরের বিভিন্ন স্থানে বড় আকারের গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে এবং শরিরের ভিতরের মাংস বের হয়েগেছে।
বর্তমানে এলাকায় বেওয়ারিশ কুকুরের উপদ্রব চরম আকার ধারণ করায় সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
ঘটনাটি ঘটেছে গত ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ইং ভূরুঙ্গামারী সদর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সোনাতুলী রোড (লাকী সিনেমা হল সংলগ্ন) এলাকায়।
আহত শিশুর পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ০৬ বছরের শিশু ‘মানভী’ তার মায়ের হাত ধরে দোকান থেকে ডিম নিয়ে সকাল ১১ট ৩০ মিনিট এর দিকে বাসায় ফিরছিল।
পথিমধ্যে পাশের একটি গলি থেকে হঠাৎ একটি হিংস্র কুকুর বেরিয়ে এসে মানভীর পেটে কামড় দিয়ে ধরে।
মুহূর্তেই শুরু হয় শিশুর আতঙ্কিত চিৎকার ও মায়ের আকুতি।
কুকুরটি কিছুতেই কামড় ছাড়ছিল না।
জীবন বাঁচাতে মা তার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালান।
এক হাতে মেয়েকে কোনোমতে আগলে রেখে অন্য হাতে নিজের কাছে থাকা ডিমের ব্যাগ ফেলে দিয়ে কুকুরটিকে আঘাত করতে থাকেন।
একপর্যায়ে কুকুরটি শিশুটির কোমরের পাশে এবং পেছনের অংশে আরও দুই জায়গায় উপর্যুপরি কামড় বসিয়ে দেয়।
এতে শিশুটির শরীর ক্ষতবিক্ষত হয়ে রক্তে কাপড় ভিজে লাল হয়ে যায়।
পরে স্থানীয় লোকজন দৌড়ে এসে পরিস্থিতি সামাল দেন এবং দ্রুত একটি রিকশায় করে শিশুটিকে ভূরুঙ্গামারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান।
কর্তব্যরত চিকিৎসক ও নার্সরা তাৎক্ষণিকভাবে শিশুটিকে প্রাথমিক চিকিৎসা, ক্ষতস্থানে ড্রেসিং ও প্রথম ডোজ ভ্যাকসিন প্রদান করেন।
পাশাপাশি পরবর্তী ৩টি ভ্যাকসিনের তারিখ দিয়ে তাকে ছাড়পত্র দেন। বর্তমানে শিশুটি চিকিৎসাধীন রয়েছে।
এ বিষয়ে মানভীর বাবা মোঃ মোখলেছুর রহমান (দোলন) বলেন আল্লাহর রহমতে আমার মেয়ে বেঁচে গছে,তবে দুশ্চিন্ত থেকে গেছে।
উপজেলায় বেশ কয়েকটি স্থানে কুকুরের উৎপাদ এতটাই বেরেছে আমরা বড়রাই চলাচল করতে পারছি না কুকুরের ভয়ে।
সময় উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন এবং বলেন এই বিপদের মুহূর্তে যারা এগিয়ে এসে তাদের সহায়তা করেছেন, তাদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
পাশাপাশি তার আদরের কন্যার দ্রুত সুস্থতার জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন।
শিশুটির মা বলেন আমার মেয়ে এবং আমি মৃত্যুর হাত থেকে বেঁচে আসছি,আমি ভাবিনি এই ঘটনার পর আমরা মা মেয়ে দুজন বেঁচে থাকবো।আর কোনো মায়ের সামনে যেনো সন্তানের আহাজারি দেখতে না হয় এরকম প্রত্যাশা করেন উপজেলা প্রশাসনের কাছে।
জনমনে আতঙ্ক খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ঘটনাস্থলসহ আরও উপজেলা চত্বর,উপজেলা পূর্ব গেট,আইটি মোড়,সোনাতলী বটতলা মোড়,সাদ্দাম মোড়,পাইলট স্কুলের মোড়,সিনিয়ার মাদ্রাসা মোড়,কেজি স্কুল মোড়,সরকারি কলেজের পাশেসহ আরও উপজেলার বিভিন্ন রাস্তার মোড়ে মোড়ে কুকুরের উৎপাদে চলাচল করতে পাচ্ছে না।
স্থানীয় মেডিকেলে কুকুরের কামড়ে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিতে আসা মানুষের সংখ্যাও অনেক আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে।
সাধারণ পথচারী, নারী ও শিশুরা প্রতিনিয়ত এই আতঙ্কের মধ্যে চলাচল করছে।
স্থানীয়রা অবিলম্বে বেওয়ারিশ কুকুর নিধন বা এদের উপদ্রব রোধে কার্যকর প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ভূরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার জনাব অমৃত দেবনাথ এর কাছে জানতে চাইলে তিনি প্রথমে শিশুটির খোঁজ খবর নেন এবং বলেন কুকুর নিধনের কোনো অনুমতি আমাদের কাছে নেই।
কুকুর কামড়ানোর ভেকসিন পর্যাপ্ত পরিমান রয়েছে এবং কুকুরকেই আমরা ভেকসিন দেওয়ার প্রস্তুতী নিচ্ছি বলে জানান তিনি।
