
সবজির পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকায় রাজশাহীর বাজারে গত সপ্তাহের মতো এ সপ্তাহেও অধিকাংশ সবজির দাম স্থিতিশীল রয়েছে।
তবে বেগুনের দাম ২০-৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে ৮০-৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
সবজির দাম স্থিতিশীল থাকলেও বেড়েছে ডিম ও মুরগীর দাম।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকালে নগরীর সাহেব বাজারসহ আশপাশের বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা এ চিত্র দেখা যায়।
বর্তমানে বাজারে শসা ৪০ টাকা, করলা ৩০ টাকা, আলু ২০-২৫ টাকা, পেঁয়াজ ৪৫-৫০ টাকা, পটল ৩০ টাকা, ঢেঁড়স ২৫-৩০ টাকা, বেগুন ৮০-৯০ টাকা, ফুলকপি ৬০-৭০ টাকা, ঝিঙা ৩০ টাকা, চিচিঙ্গা ৩০ টাকা, বরবটি ৪০ টাকা, কচুর লতি ৪০ টাকা, কাঁচা পেঁপে ২০ টাকা এবং মিষ্টি কুমড়া ৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
এছাড়া কাঁচাকলা প্রতি হালি ২৫ টাকা, ওল ৩০ টাকা, লাউ প্রতিটি ৩০ টাকা এবং চালকুমড়া প্রতি পিস ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে গত সপ্তাহের মতো গাজর ও টমেটোর দামও স্থিতিশীল রয়েছে।
বাজারে গাজর ১৪০ টাকা এবং টমেটো ১৪০-১৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
আদা ১৮০ টাকা, নাটোরের রসুন ৮০ টাকা এবং দেশি রসুন ১৬০-১৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে
এসব পণ্যের দামেও বড় ধরনের কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি।
গত সপ্তাহের তুলনায় বেড়েছে মুরগী ও ডিমের দাম।
দেশি মুরগির ডিম প্রতি হালি ৭৫-৮০ টাকা, হাঁসের ডিম ৭০ টাকা, ফার্মের লাল ডিম ৪৮ টাকা এবং সাদা ডিম ৪৪ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
মুরগির মধ্যে ব্রয়লার ১৮০ টাকা, সোনালি ২৫০-২৬০ টাকা, দেশি মুরগি ৫৫০ টাকা, সাদা লেয়ার ২৯০ টাকা, লাল লেয়ার ৩৪০ টাকা, ফাউমি ৩৩০ টাকা এবং হাঁস ২৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
ব্যবসায়ীদের মতে, রাজশাহীর বাজারে পর্যাপ্ত সবজির সরবরাহ থাকায় সবজির দাম কিছুটা কম।
তবে রাজশাহীতে গত কয়েকদিন টানা বৃষ্টি হচ্ছে।
এভাবেই বৃষ্টি থাকলে সবজির দাম বেড়ে যাবে বলে জানান তারা।
এদিকে দাম স্থিতিশীল থাকায় বাজারে ক্রেতাদের উপস্থিতিও ভালো বলে জানান বিক্রেতারা।
মাস্টারপাড়া বাজারে সবজি কিনতে আসা মতিয়ার রহমান বলেন, “সবকিছুর দাম গত সপ্তাহের মতোই আছে।
তবে বেগুনের দাম বেড়েছে। এছাড়াও ডিম গত সপ্তাহ থেকে এই সপ্তাহে ৪ পর্যন্ত বেড়েছে।
এছাড়াও মুরগীর দামও কিছুটা বেড়েছে বলে জানান তিনি।
তবে মাছের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে বলে জানান তিনি।”
বাজার করতে আসা ফাতেমা বেগম বলেন, “রাজশাহীতে এখন সবজির দাম এখন অনেক কম।
তবে অন্যান্য জিনিসপত্রের দাম কিছুটা বেড়ে যাচ্ছে।
পরে অন্য জিনিসপত্রের দাম কমলে সবজির দাম বেড়ে যাবে।”
সবজি বিক্রেতা আলী আকবর বলেন, “রাজশাহীর বাজারে সবজির সরবরাহ ভালো আছে।
বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতিদিন পর্যাপ্ত সবজি আসছে।
তাই গত সপ্তাহের মতো এ সপ্তাহেও সবজির দাম একই।
তবে বাজারে বেগুনের দাম বেড়েছে।”
আরেক বিক্রেতা মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, “গত সপ্তাহের সঙ্গে তুলনা করলে এ সপ্তাহে সবজির দামে তেমন কোনো পরিবর্তন নেই।
বরং প্রায় সব ধরনের সবজির দাম আরও কমেছে।
কাঁচা মরিচের দামও এখন অনেক কমে গেছে।
বাজার এভাবে স্থিতিশীল থাকলে ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ের জন্যই ভালো।”
মাছের বাজারেও গত সপ্তাহের তুলনায় উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি।
রুই ২৭০-৩০০ টাকা, কাতলা ৩০০-৩৫০ টাকা, তেলাপিয়া ১৭০-২১০ টাকা, পাঙাশ ১৮০-২০০ টাকা, চাষের কৈ ২০০-২২০ টাকা, চাষের শিং ৩০০-৩৫০ টাকা, টেংরা ৬০০-৭০০ টাকা, বোয়াল ৬৫০-৮০০ টাকা, চিংড়ি ৬৫০-৯০০ টাকা, কোরাল ৭৫০ টাকা, দেশি কৈ ৮০০-১,০০০ টাকা এবং দেশি শিং ১,০০০-১,২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
