সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার বিছনাকান্দি সীমান্ত ফাঁড়ির বিজিবির দায়ের করা একটি মামলায় সাইফুল রহমান ও কছির মিয়াকে আসামি করার ঘটনায় তাদের পরিবারের পক্ষ থেকে আপত্তি ও অভিযোগ উঠেছে।
পরিবারের দাবি, ঘটনার সঙ্গে ওই দুজনের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
পরিবারের অভিযোগ, সম্প্রতি বিছনাকান্দি পর্যটন স্পট এলাকায় বিজিবির একটি অভিযানে ভারতীয় জিরাসহ একটি নৌকা আটক করা হয়।
এ ঘটনায় বিছনাকান্দি বিওপির নায়েব সুবেদার জালাল উদ্দীন বাদী হয়ে গত শনিবার (২৯ আগস্ট) গোয়াইনঘাট থানায় মামলা করেন।
মামলার এজাহারে তিনজনের নাম উল্লেখের পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ৫০ থেকে ৬০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
ওই মামলায় সাইফুল রহমান ও কছির মিয়াকেও আসামি করা হয়েছে।
তবে তাদের পরিবারের দাবি, ঘটনার সময় তারা ঘটনাস্থলে ছিলেন না এবং কোনো ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ডের সঙ্গেও তারা জড়িত নন।
সাইফুল রহমানের পিতা আব্দুল করিম বলেন, ভারতীয় জিরা আটক ও বিজিবি ক্যাম্পে মিছিল নিয়ে আসার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিজিবি থানায় মামলা করেছে।
ওই মামলায় তার ছেলে সাইফুল রহমানকে আসামি করা হয়েছে।
বিষয়টি জানার পর তিনি রুস্তুমপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ, স্থানীয় ইউপি সদস্যসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে বিজিবি ক্যাম্পে যান।
সেখানে ক্যাম্প কমান্ডারের কাছে তার ছেলেকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন।
রুস্তুমপুর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ বলেন, সাইফুল রহমান ও কছির মিয়া ঘটনায় জড়িত নন—এমন তথ্য পাওয়ার পর স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে বিজিবি ক্যাম্পে যাই।
ক্যাম্প কমান্ডারের কাছে বিষয়টি জানালে তিনি বলেন, স্থানীয় ‘পাবলিক’ তাদের শনাক্ত করে দিয়েছে।
আবুল কালাম আজাদ আরও বলেন, যাচাই-বাছাই ছাড়া কারও কথার ভিত্তিতে কাউকে মামলায় আসামি করা ঠিক হয়নি।
তিনি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি নিরপরাধ ব্যক্তিদের মামলা থেকে অব্যাহতির ব্যবস্থা করার দাবি জানান।
স্থানীয় বাসিন্দারাও বলছেন, সীমান্ত এলাকায় কোনো অপরাধের ঘটনা ঘটলে প্রকৃত অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
একই সঙ্গে নিরপরাধ কেউ যাতে হয়রানির শিকার না হন, সেদিকেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নজর দিতে হবে।
তারা মামলাটি নিরপেক্ষভাবে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, বিজিবির মামলা সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বিজিবি সদস্যদের দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়া, অশালীন ভাষায় গালিগালাজ ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মতো ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় কয়েকজনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে মামলায় আসামি সাইফুল রহমান ও কছির মিয়ার পরিবারের দাবি, তাদের নাম মামলায় থাকলেও ওই ঘটনার সঙ্গে তাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।