ঢাকা
২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম
এক মন্ত্রণালয়ে একাধিক প্রতিমন্ত্রী—আইনে কি অনুমোদন আছে? মুহুরী নদীর পানি বাড়ছে হু হু করে: বাঁধ ভাঙার আশঙ্কায় নির্ঘুম ফেনীবাসী ​ শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় স্মরণ করা হচ্ছে যমুনা গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা নুরুল ইসলামকে ঢাকার পাশে ঘন ঘন ভূমিকম্প: বড় বিপদের আগাম বার্তা যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটিতে সহ-সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হলেন সিলেটের মোহাম্মদ মাকসুদ আহমেদ তাহিরপুরে হত্যা করে লাশ গুমের ঘটনায় পলাতক আসামি নারায়ণগঞ্জে গ্রেফতার বিদ্যুৎ সাশ্রয় কর্মসূচি: ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান খোলা থাকবে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত বিরল সূর্যগ্রহণে ইউরোপে উন্মাদনা হবিগঞ্জ কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু ওয়াশিংটনের সঙ্গে সমঝোতায় বিশাল ক্ষতিপূরণ পেতে যাচ্ছে ইরান

চট্টগ্রামে গ্রাফিতি আঁকা নিয়ে শিক্ষার্থীদের সাথে পুলিশের ধস্তাধস্তি

বাংলাদেশ মিডিয়া প্রতিবেদক
সোমবার, ১৮ মে ২০২৬   ২০৯ বার পঠিত
চট্টগ্রামে গ্রাফিতি আঁকা নিয়ে শিক্ষার্থীদের সাথে পুলিশের ধস্তাধস্তি

চট্টগ্রাম নগরের টাইগারপাস এলাকায় নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে গ্রাফিতি আঁকাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের সাথে পুলিশের ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটেছে। আজ সোমবার (১৮ মে) দুপুরে এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে তিনজনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হলেও পরবর্তীতে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।

​প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দুপুরে রং ও প্রয়োজনীয় উপকরণ নিয়ে একদল শিক্ষার্থী টাইগারপাস মোড়ে জড়ো হয়ে দেয়ালে গ্রাফিতি অঙ্কনের চেষ্টা চালায়। ওই এলাকায় সিএমপির নিষেধাজ্ঞা থাকায় পুলিশ তাদের বাধা দেয়। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয় এবং একপর্যায়ে তা ধস্তাধস্তিতে রূপ নেয়।

​শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, ঘটনাস্থলে উপস্থিত একজন পুরুষ পুলিশ কর্মকর্তা নারী শিক্ষার্থীদের গায়ে হাত তুলেছেন এবং ধাক্কা দিয়েছেন। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) উপ-পুলিশ কমিশনার (উত্তর) আমিরুল ইসলাম। তিনি বলেন,
​”আমি কারও গায়ে হাত দিইনি, বরং উল্টো তারা আমার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটার আশঙ্কায় তিনজনকে সাময়িক হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল, পরে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।”

​খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতিবিজড়িত কিছু গ্রাফিতি বা দেয়ালচিত্র অপসারণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে গত রবিবার রাত থেকেই নগরীতে রাজনৈতিক উত্তেজনা বিরাজ করছিল। এ ঘটনাকে ঘিরে ন্যাশনাল কংগ্রেস পার্টি (এনসিপি) ও বিএনপির স্থানীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে পাল্টা-পাল্টি স্লোগান ও উত্তেজনা তৈরি হয়।

​রবিবার রাতে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক) কার্যালয়ে যাওয়ার সড়কে চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনকে দায়ী করে ‘শাহাদাত জুলাইয়ের গাদ্দার’সহ বিভিন্ন স্লোগান লিখে দেয় একপক্ষ। এরপরই ছাত্রদলসহ বিএনপির স্থানীয় নেতা-কর্মীরা ঘটনাস্থলে এসে এর তীব্র প্রতিবাদ জানান এবং বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। পরে তারা ওই লেখাগুলো মুছে দেন। এ সময় দু’পক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

​উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আজ সোমবার সকালে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার হাসান মো. শওকত আলীর স্বাক্ষর করা এক গণবিজ্ঞপ্তিতে জরুরি নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে নগরের জিইসি মোড় থেকে দেওয়ানহাট ফ্লাইওভার পর্যন্ত সব ধরনের সভা-সমাবেশ, মিছিল ও মিটিং নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। একই সাথে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল জোরদার করা হয়। এই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করেই দুপুরে শিক্ষার্থীরা টাইগারপাস মোড়ে নতুন করে গ্রাফিতি আঁকতে গেলে পুলিশের সাথে সংঘাত বাধে।

​এদিকে গ্রাফিতি অপসারণের অভিযোগের বিষয়ে মুখ খুলেছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন, চসিক থেকে গ্রাফিতি মোছার কোনো নির্দেশ দেওয়া হয়নি এবং ভবিষ্যতেও দেওয়া হবে না।

​মেয়র বলেন,
​”পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা তাদের নিয়মিত কাজের অংশ হিসেবে নগরীর বিভিন্ন দেয়াল থেকে পুরোনো পোস্টার অপসারণ করেছেন। পোস্টারের আড়ালে ঢাকা পড়া কিছু গ্রাফিতি হয়তো অসাবধানতাবশত চটে গিয়ে থাকতে পারে, যা কর্মীরা খেয়াল করেননি। নগরের বহু পিলারে এখনো জুলাই আন্দোলনের গ্রাফিতি অক্ষত আছে, কোনোটিই ইচ্ছাকৃতভাবে মোছা হয়নি।”

​শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, টাইগারপাসসহ নগরীর গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন রয়েছে এবং থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

Facebook Comments Box
আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
SuMoTuWeThFrSa