সিলেট টেক্সটাইল ইনস্টিটিউট ছাত্রাবাসে দীর্ঘদিন ধরেই পানির সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। নিয়মিতই দুই থেকে তিন দিন পানি না থাকার কারণে শিক্ষার্থীরা চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন। একইভাবে গতকাল সকাল থেকে টানা ২৪ ঘণ্টা হোস্টেলে পানি না থাকায় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
পানির সংকটের পাশাপাশি উঠে এসেছে খাবারের নিম্নমান ও আয়রনযুক্ত পানি ব্যবহারের অভিযোগ। শিক্ষার্থীরা জানান, হোস্টেলের খাবারে মানহীন উপকরণ ব্যবহার করা হয় এবং বিশুদ্ধ পানি না থাকায় কয়েকদিন পর পর কেউ না কেউ ডায়রিয়া কিংবা পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। এই বিষয়ে শিক্ষার্থীরা একাধিকবার অভিযোগ করলেও তেমন কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ— “খাবারের মান নিয়ে যতবার অভিযোগ করেছি, অধক্ষ্য স্যার শুধু একটিই উত্তর দেন—‘আমরা বিষয়টা কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।’ কিন্তু দিনের শেষে ভোগান্তিতে পড়ে শিক্ষার্থীরাই।”
এরই মধ্যে আজ শিক্ষার্থীরা হোস্টেল সুপার মোঃ সোহেল আরমান–এর সাথে পানি সমস্যার বিষয়ে কথা বলতে গেলে তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে অশালীন ভাষায় গালাগালি করেন এবং কয়েকজন শিক্ষার্থীর ওপর হাত তোলেন বলেও অভিযোগ ওঠে।
শিক্ষার্থীরা বলছেন “এটি আমাদের জন্য চরম অপমানজনক ও একেবারে অগ্রহণযোগ্য।”
ঘটনার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা হোস্টেল সুপারের অবিলম্বে পদত্যাগ দাবি করেছেন এবং ঘোষণা দিয়েছেন “তিনি পদত্যাগ না করা পর্যন্ত ক্লাস বর্জন চলবে ও পুরো ইনস্টিটিউট শাটডাউন থাকবে।”
তারা আরও আলটিমেটাম দিয়েছেন, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হোস্টেল সুপার পদত্যাগ না করলে আরও কঠোর আন্দোলনের ঘোষণা দেওয়া হবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সিলেট টেক্সটাইল ইনস্টিটিউটের প্রিন্সিপাল ইঞ্জিনিয়ার হুমায়ুন কবির জানান “ঘটনার বিষয়ে খুব দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। হোস্টেল সুপারের পদত্যাগের বিষয়ে কর্তৃপক্ষকে ইতিমধ্যে অবহিত করা হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই একটি সমাধান আসবে।”
এ ঘটনায় ইনস্টিটিউটজুড়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে। শিক্ষার্থীরা বলছেন, দীর্ঘদিনের ভোগান্তির শেষ চায় তারা—হোক তা পানি, খাবারের মান, কিংবা কলেজ কতৃপক্ষের অবহেলার।
Development by: webnewsdesign.com