ঢাকা
০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম
এক মন্ত্রণালয়ে একাধিক প্রতিমন্ত্রী—আইনে কি অনুমোদন আছে? মুহুরী নদীর পানি বাড়ছে হু হু করে: বাঁধ ভাঙার আশঙ্কায় নির্ঘুম ফেনীবাসী ​ শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় স্মরণ করা হচ্ছে যমুনা গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা নুরুল ইসলামকে ঢাকার পাশে ঘন ঘন ভূমিকম্প: বড় বিপদের আগাম বার্তা যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটিতে সহ-সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হলেন সিলেটের মোহাম্মদ মাকসুদ আহমেদ তাহিরপুরে হত্যা করে লাশ গুমের ঘটনায় পলাতক আসামি নারায়ণগঞ্জে গ্রেফতার বিদ্যুৎ সাশ্রয় কর্মসূচি: ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান খোলা থাকবে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত বিরল সূর্যগ্রহণে ইউরোপে উন্মাদনা হবিগঞ্জ কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু ওয়াশিংটনের সঙ্গে সমঝোতায় বিশাল ক্ষতিপূরণ পেতে যাচ্ছে ইরান

হবিগঞ্জ দুই মাসও পার হয়নি এর মধ্যেই তিন দফায় পানিতে তলিয়ে গেছে ২০ গ্রাম।

লিটন পাঠান, হবিগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি

বাংলাদেশ মিডিয়া প্রতিবেদক
বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬   ৩৪ বার পঠিত
হবিগঞ্জ দুই মাসও পার হয়নি এর মধ্যেই তিন দফায় পানিতে তলিয়ে গেছে ২০ গ্রাম।

হবিগঞ্জ সদর উপজেলার লস্করপুর ইউনিয়নের বিশাল এলাকা।
খোয়াই নদীর কালীগঞ্জ বাঁধে পরপর দুবার ভাঙনের কারণে চরহামুয়া, সুঘর, নোয়াবাদ, বনগাঁও, বনদক্ষিণ, পূর্ব সুলতানশী, আদ্যপাশাসহ অন্তত ২০টি গ্রামের মানুষের জীবন জীবিকা সংকটের মুখে পড়েছে।
একবার ঘর গোছানোর আগেই আবারও পানি, একবারের ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার আগেই নতুন করে সর্বনাশ এমন দুর্বিষহ পরিস্থিতির মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন এসব গ্রামের মানুষ।
স্থানীয়রা জানান, গত ৯জুলাই ভারী বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলে কালীগঞ্জ বাঁধ ভেঙে অর্ধশতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়।
এতে ফসলি জমি, মাছের ঘের, রাস্তাঘাট ও বসতবাড়ি তলিয়ে গিয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।
পানি কমে এলে হবিগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড ৮২ লাখ টাকা ব্যয়ে বাঁধ মেরামতের কাজ শুরু করে।
কিন্তু দীর্ঘ দেড় মাসেও মেরামতের কাজ শেষ হয়নি। এর মধ্যে গত ২৩ আগস্ট বাঁধটি আবারও ভেঙে যায়।
দ্বিতীয় দফায় পানি প্রবেশ করায় নতুন করে ক্ষতির মুখে পড়েন স্থানীয়রা।
অনেকে ঘরবাড়ি মেরামত করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন।
আবার অনেকে ঘর গোছানোর সুযোগই পাননি।
এরই মধ্যে গত শুক্রবার খোয়াই নদীতে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় তৃতীয়বারের মতো ওই ২০টি গ্রামে পানি প্রবেশ করেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের গাফিলতি ও অনিয়ম এবং বাঁধ মেরামত কাজে ধীরগতির কারণে বারবার ভাঙনের ঘটনা ঘটছে।
দুবার বাঁধ ভেঙে ফসলি জমি, মাছের ঘের, রাস্তাঘাট ও বসতবাড়ির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
এতে শত কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি তাদের।
অনেক কৃষক ক্ষতির মুখে পড়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
সুঘর গ্রামের সুমন মিয়া বলেন, পরপর দুবার একই জায়গায় বাঁধ ভেঙেছে।
এতে ধান ও শাকসবজির ক্ষেত তলিয়ে গেছে।
রাস্তাঘাট ভেঙে যাওয়ায় চলাচলেও দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে।
চরহামুয়া গ্রামের আবদুল হক বলেন, প্রথম বার বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় অর্ধশতাধিক গ্রামের মানুষ বন্যার কবলে পড়েন।
এতে অনেকের ঘরবাড়ি ভেঙে যায়।
এসব ঘরবাড়ি মেরামত করার আগেই আবারও বাঁধ ভেঙে পানি প্রবেশ করে।
ঘরবাড়ি মেরামত করার আর সুযোগ হয়নি।
বনদক্ষিণ গ্রামের আলতাব মিয়া বলেন, আমরা বর্তমানে অসহায় হয়ে পড়েছি।
বাঁধ ভাঙার কারণে তৃতীয়বারের মতো গ্রামগুলো পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।
বাঁধ মেরামতে ধীরগতির কারণেই এমন অবস্থা তৈরি হয়েছে।
এদিকে সংশ্লিষ্টরা জানান, বর্ষা মৌসুমে প্রতিদিন বৃষ্টিপাত এবং সঠিক সময়ে মাটি সংগ্রহ করতে না পারায় বাঁধ মেরামতকাজে বিলম্ব হয়েছে।
এর আগে গত মঙ্গলবার বাঁধটি পরিদর্শনে এসে স্থায়ী সমাধানের আশ্বাস দেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী।
তিনি স্থানীয় কর্মকর্তাদের ১৫ দিনের মধ্যে বাঁধ মেরামতের নির্দেশ দেন।
হবিগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সাইদুর রহমান বলেন বাঁধটি দ্রুত সময়ে মেরামতের চেষ্টা চলছে।
বর্তমানে প্রতিদিন বৃষ্টিপাত হচ্ছে এবং ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে বাঁধ মেরামতে বিলম্ব হচ্ছে।
এলাকাবাসীর দাবি, এবার আর শুধু বাঁধ মেরামতের আশ্বাস নয়, খোয়াই নদীর কালীগঞ্জ বাঁধের স্থায়ী ও টেকসই সমাধান করতে হবে।
তা না হলে নদীতে পানি বাড়লেই বারবার প্লাবিত হয়ে নতুন করে ক্ষতির মুখে পড়তে হবে ২০ গ্রামের মানুষকে।
Facebook Comments Box
Advertise with us
আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
SuMoTuWeThFrSa