হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী আন্দিউড়া উম্মেতুন্নেছা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ, ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরি ও নানাবিধ অনিয়ম-দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
এসব অনিয়মের প্রতিকার ও সুষ্ঠু তদন্তের দাবিতে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালকসহ প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন অভিভাবকেরা।
এর আগে প্রধান শিক্ষকের শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় এলাকাবাসী।
দায়ের করা লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রধান শিক্ষক আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে পরীক্ষার ফি, শিক্ষার্থীদের বেতনের টাকা আত্মসাৎ, এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণে অতিরিক্ত ফি আদায়, প্রশংসাপত্র বাবদ আদায়কৃত অর্থ প্রতিষ্ঠানে জমা না দেওয়া এবং ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরি করে প্রাতিষ্ঠানিক তহবিল তছরুপের অভিযোগ আনা হয়েছে।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয় ২০২৬ সালের অর্ধবার্ষিক ও প্রাক-নির্বাচনী পরীক্ষার ফি এবং শিক্ষার্থীদের মাসিক বেতন ওয়েবসাইটের মাধ্যমে পরিশোধের জন্য যথাসময়ে প্রধান শিক্ষক আমিনুল ইসলামের কাছে নগদ অর্থ জমা দেওয়া হয়।
তবে পরবর্তীতে শিক্ষার্থীদের আইডি অনলাইনে যাচাই করে দেখা যায়, ফি ও বেতন বকেয়া হিসেবে প্রদর্শিত হচ্ছে।
এ ছাড়া ২০১৪ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণ বাবদ শিক্ষা বোর্ডের নির্ধারিত ফির চেয়ে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, অতিরিক্ত আদায়কৃত অর্থ বিদ্যালয়ের ব্যাংক হিসাবে জমা না দিয়ে প্রধান শিক্ষক ব্যক্তিগতভাবে আত্মসাৎ করেছেন।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, ২০১৪ সাল থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ১২বছরে শিক্ষার্থীদের প্রশংসাপত্র (টেস্টিমোনিয়াল) প্রদান বাবদ আড়াই লাখ থেকে প্রায় তিন লাখ টাকা আদায় করা হলেও তা প্রতিষ্ঠানের তহবিলে জমা করা হয়নি।
পাশাপাশি বিভিন্ন ভুয়া ভাউচারের মাধ্যমে বিদ্যালয়ের বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে।
এসব অভিযোগের বিষয়ে প্রধান শিক্ষক আমিনুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনা এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ অসত্য, ইতিপূর্বে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ তদন্ত করে এসবের কোনো সত্যতা পায়নি।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে মাধবপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলামের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।