

অনেক সময় জরুরি কোনো কাজ শুরু করতে গিয়েও আমরা দ্বিধায় পড়ে যাই। কাজটি করতে হবে জানলেও বারবার পিছিয়ে দিই। সাধারণত এটিকে আলস্য বা ইচ্ছাশক্তির অভাব মনে করা হলেও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর পেছনে কাজ করে মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কিছু প্রতিক্রিয়া।
স্নায়ুবিজ্ঞানী ড. ডমিনিক এনজির মতে, মস্তিষ্ক স্বাভাবিকভাবেই অস্বস্তি এড়াতে এবং শক্তি সঞ্চয় করতে চায়। ফলে কোনো বড় বা জটিল কাজের মুখোমুখি হলে মানসিক প্রতিরোধ তৈরি হয়।
বিশেষজ্ঞরা এই প্রতিরোধকে মূলত দুই ভাগে ভাগ করেছেন—আবেগগত প্রতিরোধ এবং আত্মপরিচয় রক্ষার প্রতিরোধ। কাজটিকে যত বেশি কঠিন বা ভীতিকর মনে হয়, মস্তিষ্ক তত বেশি তা এড়িয়ে যেতে চায়। একইভাবে ব্যর্থতার ভয়ও অনেক সময় কাজ শুরু করার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
কাজ শুরু করার জন্য বিশেষজ্ঞরা কয়েকটি সহজ কৌশল অনুসরণের পরামর্শ দিয়েছেন—
১. দুই মিনিটের নিয়ম: পুরো কাজ নয়, মাত্র দুই মিনিট করার লক্ষ্য ঠিক করুন।
২. প্রস্তুতি দিয়ে শুরু করুন: কাজ শুরু করতে না পারলে অন্তত প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিন।
৩. নিজেকে পুরস্কৃত করুন: কাজ শেষের পর নিজের জন্য ছোট কোনো পুরস্কার নির্ধারণ করুন।
৪. কাজকে আনন্দদায়ক করুন: প্রিয় গান, চা বা পডকাস্টের সঙ্গে কাজকে যুক্ত করুন।
৫. নিখুঁত হওয়ার চাপ কমান: পরিপূর্ণতার চিন্তা বাদ দিয়ে শেখার মনোভাব নিয়ে শুরু করুন।
৬. পরিচয়ের পরিবর্তন আনুন: ‘আমাকে করতে হবে’ ভাবনার বদলে ‘এটা আমার অভ্যাসের অংশ’—এমন মানসিকতা গড়ে তুলুন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বড় কোনো কাজ সম্পন্ন করার সবচেয়ে কঠিন ধাপ হলো শুরু করা। তাই ছোট পদক্ষেপ দিয়ে শুরু করাই হতে পারে সাফল্যের প্রথম চাবিকাঠি।


