
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে একটি ভবনে থাকা একাধিক এনজিও অফিসে দুর্ধর্ষ দস্যুতার ঘটনা ঘটেছে।
এ সময় বাধা দেওয়ায় গাক (GUK) এনজিওর এক হিসাবরক্ষককে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে গুরুতর আহত করেছে দস্যুরা।
আহত ওই কর্মীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে ৩টার দিকে সরাইল সদর ইউনিয়নের উত্তর কুট্টাপাড়া এলাকার খোরশেদ ভবনে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, খোরশেদ ভবনের প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলায় পল্লী মঙ্গল, সিদীপ, গাকসহ কয়েকটি এনজিও দীর্ঘদিন ধরে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।
ভীর রাতে দস্যুরা ভবনের মূল ফটকের তালা কেটে ভেতরে প্রবেশ করে।
পরে তারা বিভিন্ন এনজিও অফিসে ঢুকে লকার ভাঙার চেষ্টা করে।
এ সময় গাক এনজিওর এক হিসাবরক্ষক বাধা দিতে গেলে দস্যুরা তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে।
এতে তিনি গুরুতর আহত হন।
পরে তাকে স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হয়।
এদিকে, দস্যুরা ভবনে থাকা কয়েকজনকে একটি কক্ষে আটকে রেখে বাইরে থেকে দরজায় তালা লাগিয়ে দেয়।
এছাড়া ভবনে স্থাপিত সিসিটিভি ক্যামেরার মূল রেকর্ডিং বক্সও কেটে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ঘটনার বিষয়ে সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনজুর কাদের ভূঁইয়া বলেন, “গতকাল রাতে সংঘটিত ঘটনায় দুজন দুষ্কৃতকারী জড়িত থাকায় আইনি সংজ্ঞায় এটি একটি দস্যুতার ঘটনা।
তালা কেটে ভেতরে ঢুকে লকার ভাঙার চেষ্টা করার সময় বাধা দেওয়ায় দুষ্কৃতকারীরা অ্যাকাউন্টেন্টকে আঘাত করে পালিয়ে যায়।
আহত কর্মী বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।”
ওসি আরও বলেন, “অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে।
এ বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”
ঘটনার পর ওই এলাকায় নিরাপত্তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে তদন্ত ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
