
দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতিতে মিরসরাই উপজেলার অন্যতম প্রধান বাণিজ্যকেন্দ্র বারইয়ারহাট বাজারে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।
বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারগুলোকে সংসার চালাতে গিয়ে রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছে।
চাল, ডাল, তেলসহ প্রায় সব ধরনের নিত্যপণ্যের দাম বাড়তি থাকায় মাস শেষে আয়-ব্যয়ের হিসাব মেলাতে পারছেন না অনেকেই।
নিম্ন আয়ের মানুষ নিজেদের আর্থিক কষ্টের কথা বলতে পারলেও চরম বিপাকে রয়েছেন স্বল্প বেতনের চাকরিজীবী, স্থানীয় শ্রমজীবী ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো।
সামাজিক মর্যাদার ভয়ে অনেকেই নীরব যন্ত্রণা সহ্য করছেন, প্রকাশ করতে পারছেন না নিজেদের দেনা-পাওনার হিসাব কিংবা আর্থিক সংকটের কথা।
শুক্রবার সরেজমিনে বারইয়ারহাট বাজার ঘুরে দেখা যায়, একই পণ্য একেক দোকানে ভিন্ন ভিন্ন দামে বিক্রি হচ্ছে।
ডিম, ডাল, পেঁয়াজ ও আলুসহ প্রায় সব দরকারি পণ্যের বাজারই চড়া।
মানভেদে চায়না ও দেশি রসুন ৯০ থেকে ১৩০ টাকা, দেশি পেঁয়াজ ৬০ টাকা, আলু ২৫ টাকা এবং চিনি ১১০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
এ ছাড়া চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে জিরা, গোলমরিচ ও এলাচ। হাঁস ও ফার্মের ডিম ডজনপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ১৩০ থেকে ১৬০ টাকায়।
কাঁচাবাজারেও মিলছে না স্বস্তির খবর। কেজিপ্রতি শিম ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা, টমেটো ১২০ থেকে ১৪০ টাকা, ফুলকপি ১৫০ টাকা, মূলা ৬০ থেকে ৮০ টাকা, পটল ৬০ টাকা, করলা ৮০ টাকা, কচুর লতি ৭০ টাকা, লালশাক ৮০ থেকে ১০০ টাকা, বরবটি ১০০ টাকা এবং শসা ৮০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।
মাছের বাজারেও নেই কোনো স্বস্তি।
কেজিপ্রতি তেলাপিয়া ১৮০ থেকে ২৫০ টাকা, রুই ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা, মৃগেল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা এবং চিংড়ি ৮৫০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর স্থানীয় বাজারে এক কেজির কম ওজনের ইলিশ কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৬০০ থেকে ২ হাজার ৬০০ টাকা পর্যন্ত। অপরিবর্তিত রয়েছে মুরগির বাজার—ব্রয়লার কেজিপ্রতি ১৮০ টাকা, কক ৩৫০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
বারইয়ারহাট বাজারের ব্যবসায়ীরা জানান, পাইকারি পর্যায়ে দাম বাড়ায় ডিম ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বেশি দামে বেচতে হচ্ছে, যার ফলে ক্রেতাদের সাথে প্রায়ই বাকবিতণ্ডা হচ্ছে এবং বিক্রিও আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে।
বাজার করতে আসা সাধারণ ক্রেতারা হতাশা প্রকাশ করে জানান, প্রতিদিনের বাজার খরচ চালাতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে।
স্থানীয় ভোক্তাদের দাবি, অবিলম্বে বারইয়ারহাট বাজারে নিয়মিত নজরদারির পাশাপাশি অসাধু সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নিতে হবে।
