
পাহাড়ি জেলা খাগড়াছড়িতে হঠাৎ আকস্মিক ও প্রবল বর্ষণে দেখা দিয়েছে তীব্র জলাবদ্ধতা ও বন্যা পরিস্থিতি।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) গভীর রাতে উপজেলার দীঘিনালা এলাকায় মাত্র তিন ঘণ্টার ব্যবধানে ১০৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে প্লাবিত হয়েছে বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল, সেই সঙ্গে একাধিক স্থানে পাহাড় ধসে খাগড়াছড়ি-দীঘিনালা ও পর্যটন কেন্দ্র সাজেকের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টা থেকে সাড়ে ৩টা পর্যন্ত টানা অতিভারী বৃষ্টিপাত হয়।
এর প্রভাবে পাহাড়ি নদী মাইনীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
এতে দীঘিনালার মেরুং, কবাখালি ও বেয়োলখালি এলাকার বেশ কিছু গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।
হঠাৎ পানি বাড়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। রাতে ঘুমন্ত অবস্থায় বহু বসতবাড়িতে পানি ঢুকে পড়ে।
চৌমুহনীর জগন্নাথ পাড়ার এক বাসিন্দা জানান, বিগত মাসের বন্যায়ও তাঁদের ঘরে পানি ওঠেনি, কিন্তু মাত্র কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টিতেই এবার ঘরবাড়ি তলিয়ে গেছে।
পাশাপাশি সবেমাত্র রোপণ করা আমন ধানের ক্ষেত ও বেশ কিছু গ্রামীণ সড়ক পানির নিচে তলিয়ে গেছে।
দীঘিনালা আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের কর্মকর্তা সুভূধি চাকমা জানান, চলতি বর্ষা মৌসুমে এত অল্প সময়ে এত বিপুল পরিমাণ বৃষ্টিপাত আর রেকর্ড করা হয়নি।
অন্যদিকে, ভারি বৃষ্টির কারণে খাগড়াছড়ি-দীঘিনালা সড়কের ৫ মাইল ও ৯ মাইল এলাকায় বড় আকারের পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে।
ফলে দীঘিনালা ও জনপ্রিয় পর্যটন এলাকা সাজেকের সঙ্গে সরাসরি যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে।
হাজারও পর্যটক ও স্থানীয় যাত্রী সাধারণ চলাচলে দুর্ভোগে পড়েছেন।
যোগাযোগ ব্যবস্থা দ্রুত স্বাভাবিক করতে ইতোমধ্যেই উদ্ধারকাজ শুরু করেছে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ।
খাগড়াছড়ি সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সৌম্য তালুকদার জানান, সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশটি বেশ বড়। তবে দ্রুততম সময়ে সড়ক থেকে মাটি সরিয়ে যানবাহন চলাচল সচল করতে ভারী যন্ত্রপাতি নিয়ে কাজ চালানো হচ্ছে।
