
লিওনেল মেসির সঙ্গে দেখা করার স্বপ্ন দেখেন বিশ্বের কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমী। সেই তালিকায় রয়েছেন হলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী Anya Taylor-Joy। বিশ্বজুড়ে খ্যাতি পেলেও নিজের আর্জেন্টাইন শিকড় ও সংস্কৃতির প্রতি তাঁর ভালোবাসা সবসময়ই প্রকাশ করেছেন তিনি।
মেসির প্রতি মুগ্ধতা, আর্জেন্টিনার জার্সি পরে ফুটবল ম্যাচ দেখতে যাওয়া কিংবা সাবলীল স্প্যানিশ ভাষায় কথা বলা—সব মিলিয়ে হলিউডের ঝলমলে জগতেও তিনি নিজেকে একজন গর্বিত আর্জেন্টাইন হিসেবে তুলে ধরেন।
জন্ম যুক্তরাষ্ট্রে, শৈশব আর্জেন্টিনায়
আনিয়া টেইলর–জয়ের জন্ম যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামিতে হলেও জীবনের প্রথম ছয় বছর কেটেছে আর্জেন্টিনার রাজধানী Buenos Aires-এ। তাঁর বাবা আর্জেন্টাইন বংশোদ্ভূত এবং মা ব্রিটিশ-স্প্যানিশ পরিবারের।
শৈশবে তাঁর প্রধান ভাষা ছিল স্প্যানিশ। পরে পরিবার লন্ডনে চলে গেলে নতুন পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিতে তাঁর কষ্ট হয়েছিল। এমনকি তিনি দীর্ঘদিন ইংরেজি শেখার প্রতিও আগ্রহ দেখাননি, কারণ তাঁর আশা ছিল আবার আর্জেন্টিনায় ফিরে যাবেন।
মেসির প্রতি ভালোবাসা
আর্জেন্টিনার ফুটবল মানেই মেসি—এ কথা আনিয়াও স্বীকার করেছেন বহুবার। বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে তিনি আর্জেন্টিনা জাতীয় দল ও মেসির প্রতি নিজের ভালোবাসার কথা জানিয়েছেন।
এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, মেসির সঙ্গে দেখা করতে চান তিনি। Lionel Messi-এর নেতৃত্বে আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ জয়ের ম্যাচ দেখার অভিজ্ঞতাও তাঁর কাছে ছিল বিশেষ স্মরণীয়।
ফুটবলের প্রতি নিজের ভালোবাসার প্রমাণও দিয়েছেন আনিয়া। ২০২৬ বিশ্বকাপের সময় যুক্তরাষ্ট্র ও প্যারাগুয়ের ম্যাচ দেখতে গিয়ে তিনি আর্জেন্টিনার জাতীয় দলের জার্সি পরে স্টেডিয়ামে উপস্থিত হন। তাঁর স্বামীও আর্জেন্টিনা লেখা পোশাক পরেছিলেন। মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে সেই ছবি।
অভিনয় থেকে বিশ্বখ্যাতি
লন্ডনে মডেলিং এজেন্টের নজরে পড়ার পর আনিয়ার ক্যারিয়ার শুরু হয়। ২০১৫ সালে মুক্তি পাওয়া The Witch চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি আলোচনায় আসেন। এরপর Split, Glass এবং Emma.-এর মতো সিনেমায় অভিনয় করেন।
তবে তাঁর ক্যারিয়ারের বড় পরিবর্তন আসে The Queen’s Gambit সিরিজের মাধ্যমে। দাবাড়ু বেথ হারমন চরিত্রে অভিনয় করে তিনি বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পান এবং অর্জন করেন Golden Globe Awards ও Screen Actors Guild Awards-এর মতো সম্মাননা।
আজ আনিয়া টেইলর–জয় শুধু হলিউডের সফল অভিনেত্রী নন, বরং নিজের আর্জেন্টাইন পরিচয়কে গর্বের সঙ্গে তুলে ধরা এক ব্যতিক্রমী আন্তর্জাতিক তারকা।