জঙ্গল সলিমপুরে সন্ত্রাস দমনে যৌথ অভিযানের ঘোষণা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

রবিবার, ৩১ মে ২০২৬ | ১২:৫২ অপরাহ্ণ

জঙ্গল সলিমপুরে সন্ত্রাস দমনে যৌথ অভিযানের ঘোষণা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
apps

​চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুরসহ আশপাশের পাহাড়ি এলাকাকে আর কোনো বিচ্ছিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর অভয়ারণ্য হতে দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। আজ রোববার (৩১ মে) সকালে চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুর এলাকা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

​স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “আলীনগর ও জঙ্গল সলিমপুরের পাশাপাশি বেতুয়া ও চা বাগান নামক পাহাড়ি এলাকাগুলোতেও সন্ত্রাসীদের আনাগোনার সুনির্দিষ্ট তথ্য আমাদের কাছে রয়েছে। অত্যন্ত সুপরিকল্পিত যৌথ ও সাঁড়াশি অভিযানের মাধ্যমে খুব দ্রুতই এদের উচ্ছেদ করা হবে।”

​মাদক, সন্ত্রাস, জুয়া এবং চাঁদাবাজিকে দেশের প্রধান চারটি অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করে মন্ত্রী বলেন, এই চার অপরাধকে সরকার অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে মোকাবিলা করবে। তবে অপরাধ দমনে বিদ্যমান কিছু আইনের সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “১৮৬৭ সালের জুয়া আইনটি বর্তমান যুগের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়। এখন অনলাইন-অফলাইন বেটিং ও জুয়া ছড়িয়ে পড়েছে, যা পুরোনো আইন দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। তাই আগামী সংসদ অধিবেশনেই একটি নতুন ও যুগোপযোগী আইন পাসের চেষ্টা করা হচ্ছে।”

​মাদকের বিস্তার রোধে সরকারের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “মাদক সংক্রান্ত হাজার হাজার মামলা বছরের পর বছর ঝুলে আছে। এসব মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে মাদক নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধন করে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের বিধান আনা হবে।”
​”কিশোর গ্যাংয়ের আইনি সুযোগ-সুবিধার অপব্যবহার রুখতে আইনের প্রয়োজনীয় সংস্কার করা হবে।”

— স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ

​দেশে কিশোর গ্যাংয়ের ক্রমবর্ধমান তৎপরতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমান আইনের কিছু ফাঁকফোকর ও সুযোগ-সুবিধা অপব্যবহার করে কিশোররা গুরুতর অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে এবং পরবর্তীতে ভয়ঙ্কর সন্ত্রাসীতে পরিণত হচ্ছে। কিশোর অপরাধ দমনেও আইনি সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে তিনি জানান।

​পরিদর্শনকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন সরকারের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি), বিজিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক এবং র‌্যাব ও এলজিইডিসহ বিভিন্ন সংস্থার দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা।

Development by: webnewsdesign.com