মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ও বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রভাবে দেশে জ্বালানি সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় গৃহীত পদক্ষেপ দ্রুত বাস্তবায়ন এবং নতুন উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
রোববার বিকেলে বাংলাদেশ সচিবালয়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সচিবদের নিয়ে বিশেষ বৈঠকে তিনি এ নির্দেশ দেন। বৈঠকে এলপিজি আমদানিনির্ভরতা কমানো, নতুন গ্যাসকূপ খনন, অভ্যন্তরীণ গ্যাস অনুসন্ধান এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়।
দেশে প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুত কমে আসায় নিজস্ব উৎস থেকে জ্বালানি উৎপাদন বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ফুলবাড়ীতে স্থানীয়দের সম্মতি সাপেক্ষে কয়লা উত্তোলনের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছে পেট্রোবাংলা। বড়পুকুরিয়ায় নতুন করে ৩০০ একর এলাকায় উত্তোলনের কাজ শুরু হয়েছে। জয়পুরহাটের জামালগঞ্জেও কয়লা উত্তোলনের সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে ২০৩০ সালের মধ্যে স্থলভাগে ১৫০টি গ্যাসকূপ খননের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। এর মধ্যে ৩২টি কূপের ড্রিলিং ও ওয়ার্কওভার শেষ হয়েছে। এসব কূপ থেকে দৈনিক ২৮৫ দশমিক ৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে।
বঙ্গোপসাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের আন্তর্জাতিক দরপত্রে এখন পর্যন্ত ১০টি দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠান দরপত্র ও তথ্য প্যাকেজ কিনেছে। আগামী ৩০ নভেম্বর দরপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময়।
বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানোর ওপরও জোর দেওয়া হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন, জাতীয় সংসদ ভবন, সরকারি প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল ও হাটবাজারে রুফটপ সোলার স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে। বড় শিল্পকারখানায় সৌর প্যানেল স্থাপনের পাশাপাশি গ্রাহকদের উৎপাদিত সৌরবিদ্যুৎ বিক্রির সুযোগও দেওয়া হচ্ছে।
তবে এলএনজি সরবরাহে বড় ঘাটতি দেখা দিয়েছে। চার দেশের সঙ্গে আটটি এলএনজি আমদানি চুক্তি থাকলেও এ বছর নির্ধারিত ১০৩টি কার্গোর বিপরীতে প্রথম নয় মাসে এসেছে মাত্র ২১টি। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রভাবে সরবরাহ কমে যাওয়ায় স্পট মার্কেট থেকে বেশি দামে এলএনজি কিনতে হয়েছে।
এ অবস্থায় আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় গ্যাস, কয়লা ও সৌরবিদ্যুতের উৎপাদন বাড়িয়ে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দিকে এগোচ্ছে সরকার।

মন্তব্য করুন