এমপিওভুক্ত স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষের ১৩ হাজার ৫৫৯টি পদে নিয়োগের প্রক্রিয়ায় তৈরি হওয়া আইনি জটিলতা অনেকটাই কেটেছে। ১৮ বছরের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা সংক্রান্ত হাইকোর্টের রায়ের কার্যকারিতা স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) শিক্ষা সচিবের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হক এ আদেশ দেন।
রাষ্ট্রপক্ষে আদালতে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ওসমান চৌধুরী।
অ্যাটর্নি জেনারেল জানান, ২৫ মার্চের সংশোধনীর মাধ্যমে অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষ পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে ১৮ বছরের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা নির্ধারণ করা হয়েছিল। এর আগে ২০২১ সালের জনবল কাঠামোয় সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসেবে তিন বছরসহ মোট ১৫ বছরের অভিজ্ঞতার বিধান ছিল।
১৮ বছরের অভিজ্ঞতার শর্তকে চ্যালেঞ্জ করে ৪৬ জন শিক্ষক হাইকোর্টে রিট করেন। শুনানি শেষে হাইকোর্ট ২৫ মার্চের সংশোধনী বাতিল ঘোষণা করেন। পরে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হয়।
আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত হাইকোর্টের রায়ের কার্যকারিতা স্থগিত করায় এখন ১৮ বছরের অভিজ্ঞতার শর্ত অনুযায়ী নিয়োগ প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে আর আইনি বাধা থাকছে না।
অ্যাটর্নি জেনারেল জানান, এরই মধ্যে ১৩ হাজার ৫৫৯টি পদের জন্য লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আদালতের আদেশের ফলে ১৮ বছরের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীরা আগামী ১৫ অক্টোবর থেকে শুরু হতে যাওয়া মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন।
তবে রিট করা ৪৬ জন শিক্ষকের জন্য ৪৬টি পদ সংরক্ষণ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন চেম্বার বিচারপতি। ফলে ওই ৪৬টি পদ বাদ দিয়ে বাকি পদগুলোর নিয়োগ প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে সরকারের আর কোনো আইনগত বাধা থাকছে না।

মন্তব্য করুন