দেশের প্রত্যেক নাগরিকের জন্য একটি করে ডিজিটাল আইডি ও ডিজিটাল ওয়ালেট চালুর পরিকল্পনা করছে সরকার। সহজতা, গোপনীয়তা, নিরাপত্তা, অন্তর্ভুক্তি ও আন্তঃসংযোগ, এই পাঁচ নীতির ভিত্তিতে পুরো ব্যবস্থাটি গড়ে তোলা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ।

রোববার (৪ অক্টোবর) রাজধানীর পান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে আয়োজিত ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন’-এর দ্বিতীয় দিনে ‘দ্য গ্র্যান্ড কনভারসেশন: মডেল যখন সিদ্ধান্ত নেয়, তখন কে সিদ্ধান্ত নেয়? রাষ্ট্রের যন্ত্রকৌশলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা’ শীর্ষক সংলাপে তিনি এসব কথা বলেন। গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ এ আয়োজন করে।

রেহান আসিফ আসাদ বলেন, সরকারের লক্ষ্য হলো দেশের প্রতিটি নাগরিককে একটি ডিজিটাল পরিচয় ও ডিজিটাল ওয়ালেটের আওতায় আনা। এর মাধ্যমে নাগরিকদের বিশ্বস্ত, দ্রুত ও সহজ সরকারি সেবা নিশ্চিত করতে চায় সরকার। একই সঙ্গে কোনো নাগরিক যেন এই ব্যবস্থার বাইরে না থাকেন, সেটিকেও সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, শুধু নতুন একটি প্রযুক্তি ব্যবস্থা তৈরি করাই সরকারের উদ্দেশ্য নয়। এমন একটি সমন্বিত ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে, যার মাধ্যমে মানুষের জীবন সহজ হবে এবং সরকারি সেবা আরও দ্রুত ও নিরাপদে পাওয়া যাবে।

উপদেষ্টা জানান, পুরো ব্যবস্থার স্থাপত্য, পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে পাঁচটি মূলনীতি অনুসরণ করা হবে—সরলতা, গোপনীয়তা, নিরাপত্তা, অন্তর্ভুক্তি ও আন্তঃসংযোগ। সর্বাধুনিক প্রযুক্তির পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সম্ভাবনাও কাজে লাগানো হবে।

আন্তঃসংযোগের ফলে নাগরিকদের একই সেবা পেতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দপ্তরে আলাদাভাবে যেতে হবে না বলেও জানান তিনি। উদাহরণ হিসেবে শিক্ষা সনদসহ বিভিন্ন সরকারি নথি ও সেবাকে সমন্বিত ব্যবস্থার আওতায় আনার কথা উল্লেখ করেন।

রেহান আসিফ আসাদ বলেন, জাতীয় ডিজিটাল কৌশলের অন্যতম ভিত্তি হবে ডিজিটাল আইডি। ডেটা বিনিময় ব্যবস্থা ও ক্লাউড অবকাঠামোর সঙ্গে এটি দেশের ডিজিটাল অবকাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে কাজ করবে। এর ওপর ভিত্তি করে সরকারি ও বেসরকারি খাতে বিভিন্ন ধরনের সেবা গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

তবে দেশব্যাপী চালুর আগে সীমিত পরিসরে পরীক্ষামূলকভাবে এই ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে প্রযুক্তিগত ত্রুটি ও সম্ভাব্য সমস্যা আগে শনাক্ত করে সমাধান করা হবে, যাতে বড় পরিসরে চালুর পর একই সমস্যার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।

সংলাপে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। অনুষ্ঠানে এশিয়া ফাউন্ডেশন, ইউনেসকো, শ্রীলঙ্কার ডিজিটাল অর্থনীতি মন্ত্রণালয় এবং প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক কার্যালয়ের প্রতিনিধিরাও বক্তব্য দেন।