সম্পত্তি দান করার পরও দাতার জীবদ্দশায় সেই সম্পত্তি ভোগ ও ব্যবহারের অধিকার বহাল রাখার সুযোগ দিয়ে দেশে সম্পত্তি হস্তান্তর আইনে নতুন বিধান যুক্ত হয়েছে।
জাতীয় সংসদে পাস হওয়া ‘ট্রান্সফার অব প্রপার্টি (অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট-২০২৬’-এর মাধ্যমে ‘জীবনকালীন ভোগাধিকার সংরক্ষণপূর্বক দান’ নামে নতুন একটি পদ্ধতি চালু করা হয়েছে। আইন অনুযায়ী, সম্পত্তির মালিকানা গ্রহীতার কাছে হস্তান্তর হলেও দাতা জীবিত থাকা পর্যন্ত সম্পত্তিটি ভোগ ও ব্যবহার করতে পারবেন।
আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, নতুন বিধানটি হেবা, গিফট বা প্রচলিত অন্য কোনো পদ্ধতিতে সম্পত্তি হস্তান্তরের অধিকারকে বাধাগ্রস্ত করবে না। এসব পদ্ধতি আগের মতোই কার্যকর থাকবে।
নতুন আইনে বাবা-মা সন্তানকে, দাদা-দাদি বা নানা-নানি নাতি-নাতনিকে, সন্তান বাবা-মা বা দাদা-দাদিকে এবং স্বামী-স্ত্রী পরস্পরকে এ ধরনের সম্পত্তি দান করতে পারবেন। স্থাবর সম্পত্তির ক্ষেত্রে ঘোষণার পাশাপাশি নিবন্ধিত দলিলের মাধ্যমে দান সম্পন্ন করতে হবে।
দাতার জীবদ্দশায় গ্রহীতা মারা গেলেও সম্পত্তির ওপর দাতার জীবনকালীন ভোগাধিকার বহাল থাকবে। গ্রহীতার মৃত্যুর পর সম্পত্তি তার উত্তরাধিকারীদের কাছে গেলেও দাতার ভোগের অধিকার অক্ষুণ্ন থাকবে।
আইনে আরও বলা হয়েছে, এ ধরনের দান সাধারণভাবে অপ্রত্যাহারযোগ্য হবে। তবে আর্থিক, চিকিৎসা, শিক্ষা বা পারিবারিক প্রয়োজনসহ প্রকৃত ও যৌক্তিক কারণে দাতা ও গ্রহীতার পারস্পরিক সম্মতিতে নিবন্ধিত দলিলের মাধ্যমে দানের অধিকার পরিবর্তন বা বাতিল করা যাবে। কোনো পক্ষের সম্মতি নেওয়া সম্ভব না হলে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে জেলা জজের অনুমতি নেওয়ার সুযোগও রাখা হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীরা আইনটিকে সময়োপযোগী ও গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাদের মতে, সন্তানকে সম্পত্তি দেওয়ার পরও বাবা-মায়ের জীবনকালীন নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে এই বিধান কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
জাতীয় সংসদে পাস ও রাষ্ট্রপতির সম্মতির পর গত ৮ সেপ্টেম্বর আইনটি সর্বসাধারণের জন্য প্রকাশ করা হয়। এটি ২০২৬ সালের ১০৫ নম্বর আইন হিসেবে কার্যকর হয়েছে এবং ট্রান্সফার অব প্রপার্টি অ্যাক্ট, ১৮৮২-এর সংশোধনী হিসেবে যুক্ত হয়েছে।

মন্তব্য করুন