রান্নাঘরের নন-স্টিক প্যান, ব্লেন্ডার মেশিন কিংবা বাসন রাখার স্ট্যান্ড—এগুলো তো নিত্যদিনের ব্যবহারের জিনিস। কিন্তু এগুলোর ভেতরেও যে কোটি টাকার সোনা লুকিয়ে রাখা সম্ভব, তা হয়তো অনেকেই কল্পনা করতে পারেন না! তবে অভিনব এই কায়দাও শেষ পর্যন্ত রক্ষা করতে পারেনি দুবাইফেরত যাত্রী মোহাম্মদ কামরুল ইসলামকে।
আজ রোববার (১৮ অক্টোবর) সকালে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কাস্টমস ও গোয়েন্দাদের যৌথ অভিযানে ৫৬৬ গ্রাম সোনাসহ তাকে আটক করা হয়।
যেভাবে ধরা পড়লেন কামরুল
আজ সকালে আবুধাবি থেকে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের বিএস-৩৫০ ফ্লাইটটি যখন শাহ আমানত বিমানবন্দরে অবতরণ করে, তখন অন্যান্য যাত্রীদের মতোই স্বাভাবিক ছদ্মবেশে ছিলেন বাঁশখালীর দোনগ্রা এলাকার বাসিন্দা কামরুল ইসলাম। তবে কাস্টমস হলের স্ক্যানিং মেশিনের সামনে আসতেই ডিজিএফআইয়ের তীক্ষ্ণ নজর এড়াতে পারেননি তিনি।
পরে ডিজিএফআই, এনএসআই ও কাস্টমস ইন্টেলিজেন্সের যৌথ দল তার লাগেজ তল্লাশি শুরু করে। আর তাতেই বেরিয়ে আসে আসল সত্য।
প্যান ও ব্লেন্ডারের ভেতরে লুকানো ছিল যা
গোয়েন্দারা তল্লাশি চালিয়ে রান্নাঘরের নন-স্টিক প্যান, ব্লেন্ডার মেশিন এবং বাসন রাখার বিশেষ স্ট্যান্ডের ভেতর অত্যন্ত সুকৌশলে লুকিয়ে রাখা স্বর্ণের চালানটি উদ্ধার করেন। এর মধ্যে রয়েছে:
৪টি স্বর্ণের বার: ওজন ৪৬৬ গ্রাম।
স্বর্ণের চুড়ি: ওজন ১০০ গ্রাম।
সর্বমোট ৫৬৬ গ্রাম ওজনের এই সোনার আনুমানিক বাজার মূল্য প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ ৪০ হাজার টাকা।
আইনগত ব্যবস্থা
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উদ্ধারকৃত সোনার চালানের সঠিক পরিমাণ ও ওজন নির্ধারণ শেষে তা বিমানবন্দর কাস্টমসের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। একইসঙ্গে আটক যাত্রীর বিরুদ্ধে চোরাচালান আইনে মামলা দায়ের করে তাকে পতেঙ্গা থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।
বিমানবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইব্রাহীম খলিল এ বিষয়ে বলেন, বৈদেশিক মুদ্রা পাচার ও স্বর্ণ চোরাচালান রোধে বিমানবন্দর এলাকার গোয়েন্দা সংস্থা, কাস্টমস এবং বেবিচকের কড়া নজরদারি ও তৎপরতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

মন্তব্য করুন