ঢাকা
৩১ আগস্ট ২০২৬
শিরোনাম
এক মন্ত্রণালয়ে একাধিক প্রতিমন্ত্রী—আইনে কি অনুমোদন আছে? মুহুরী নদীর পানি বাড়ছে হু হু করে: বাঁধ ভাঙার আশঙ্কায় নির্ঘুম ফেনীবাসী ​ শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় স্মরণ করা হচ্ছে যমুনা গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা নুরুল ইসলামকে ঢাকার পাশে ঘন ঘন ভূমিকম্প: বড় বিপদের আগাম বার্তা যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটিতে সহ-সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হলেন সিলেটের মোহাম্মদ মাকসুদ আহমেদ তাহিরপুরে হত্যা করে লাশ গুমের ঘটনায় পলাতক আসামি নারায়ণগঞ্জে গ্রেফতার বিদ্যুৎ সাশ্রয় কর্মসূচি: ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান খোলা থাকবে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত বিরল সূর্যগ্রহণে ইউরোপে উন্মাদনা হবিগঞ্জ কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু ওয়াশিংটনের সঙ্গে সমঝোতায় বিশাল ক্ষতিপূরণ পেতে যাচ্ছে ইরান

চাহিদা-বরাদ্দে অসামঞ্জস্য সারের সংকট মোকাবিলায় সাত দফা দাবি ডিলারদের

ডা: মো: হাফিজুর রহমান (পান্না), রাজশাহী ব্যুরো

বাংলাদেশ মিডিয়া প্রতিবেদক
রবিবার, ৩০ আগস্ট ২০২৬   ২৪ বার পঠিত
চাহিদা-বরাদ্দে অসামঞ্জস্য সারের সংকট মোকাবিলায় সাত দফা দাবি ডিলারদের

রাজশাহীতে কৃষকের সংখ্যা চার লাখ ১২ হাজারের বেশি।

অথচ সেপ্টেম্বর মাসে পুরো জেলার জন্য টিএসপি সারের বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে মাত্র এক হাজার ৪৫ মেট্রিক টন।

এই পরিমাণ সার দিয়ে প্রত্যেক কৃষককে এক বস্তা করে দেওয়া হলে তা পৌঁছাবে মাত্র ২০ হাজার ৯০০ কৃষকের কাছে।

কৃষকের প্রকৃত চাহিদার তুলনায় সারের এমন অপ্রতুল বরাদ্দ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশন (বিএফএ) রাজশাহী জেলা ইউনিট।

রোববার (৩০ আগস্ট) বেলা ১১টায় মহানগরীর রেলগেট এলাকায় সংগঠনটির কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বিএফএ রাজশাহী জেলা ইউনিটের সভাপতি মো. ওছমান আলী এসব তথ্য তুলে ধরেন।

ওছমান আলী বলেন, রাজশাহীতে সরকারি গুদামে সারের মজুত নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।

বাফার ও বিএডিসির গুদামে পর্যাপ্ত সার রয়েছে।

তবে কৃষকের চাহিদার সঙ্গে সরকারি বরাদ্দের সামঞ্জস্য না থাকায় ডিলার পর্যায়ে চাপ তৈরি হচ্ছে।

এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের কাছে সাত দফা দাবি জানিয়েছে বিএফএ।

বিএফএর সাত দফা দাবির মধ্যে রয়েছে- কৃষকের প্রকৃত চাহিদা অনুযায়ী সারের বরাদ্দ বৃদ্ধি, সংকটপূর্ণ এলাকায় দ্রুত উপ-বরাদ্দ দেওয়া, মাছ চাষের পুকুরের জন্য সার বরাদ্দ, ডিলারদের কমিশন পুনর্নির্ধারণ এবং কৃষকদের বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে সার ব্যবহারে পরামর্শ দেওয়া।

বিএফএর তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর মাসে রাজশাহী জেলায় টিএসপি এক হাজার ৪৫ টন, এমওপি এক হাজার ৬২৯ টন এবং ডিএপি তিন হাজার ১৫ টন বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। জেলায় আবাদযোগ্য জমির পরিমাণ প্রায় এক লাখ ৮৫ হাজার হেক্টর।

সংগঠনটির নেতারা বলেন, বর্তমান বরাদ্দ কৃষকদের মধ্যে সমানুপাতিক হারে ভাগ করলে একজন কৃষকের ভাগে আনুমানিক ২ দশমিক ৫ কেজি টিএসপি, ৪ কেজি এমওপি ও ৭ কেজি ডিএপি পড়ে। কৃষকের প্রকৃত চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে তাই সারের বরাদ্দ বাড়ানো প্রয়োজন।

রাজশাহীতে বিসিআইসির ৮৬ জন এবং বিএডিসির ১৩০ জনসহ মোট ২১৬ জন সার ডিলার রয়েছেন।

এর বাইরে ৪৭৫ জন কার্ডধারী খুচরা বিক্রেতা সার বিতরণের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।

ডিলারদের দাবি, তারা সরকারি বরাদ্দ অনুযায়ী সার উত্তোলন করে নির্ধারিত মূল্যে কৃষকদের কাছে বিক্রি করছেন।

কোনো ডিলার অনিয়ম করলে তার দায় পুরো ডিলার সমাজের ওপর চাপানো উচিত নয়।

সংবাদ সম্মেলনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সার নিয়ে ‘ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর’ তথ্য ছড়ানোর অভিযোগও করা হয়।

ডিলারদের ভাষ্য, এসব তথ্যের কারণে কৃষকদের মধ্যে অযথা আতঙ্ক তৈরি হচ্ছে।

কেউ কেউ প্রয়োজনের আগেই সার কিনে মজুত করার চেষ্টা করছেন।

আগামী নভেম্বরের আলু ও পেঁয়াজ চাষকে কেন্দ্র করেও এখন থেকেই সার সংগ্রহের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে বলে জানান ডিলাররা।

তাদের দাবি, অনেক কৃষক কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শের চেয়ে বেশি সার ব্যবহার করছেন।

এতে একদিকে সারের চাহিদা অপ্রয়োজনীয়ভাবে বাড়ছে, অন্যদিকে জমির উর্বরতাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

তাই কৃষকদের সার ব্যবহারে বৈজ্ঞানিক ও সঠিক পরামর্শ দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তারা।

সংগঠনটির তথ্য অনুযায়ী, রাজশাহীতে প্রায় ১৪ হাজার হেক্টর পুকুরে মাছ চাষ হয়।

এসব পুকুরের জন্যও সার বরাদ্দ দেওয়ার দাবি জানিয়েছে বিএফএ।

 

Facebook Comments Box
Advertise with us
আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
SuMoTuWeThFrSa