
ফেনী পৌর এলাকায় প্রতিনিয়ত ডেঙ্গু পরিস্থিতি মারাত্মক আকার ধারণ করছে।
রামপুরসহ শহরের বিভিন্ন স্থানে ড্রেনেজ ব্যবস্থার অকার্যকারিতা এবং যত্রতত্র ছড়িয়ে থাকা বদ্ধ জলাশয়ের কারণে মশার বংশবৃদ্ধি চরম রূপ নিয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে স্থানীয় বাসিন্দা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর।
ইতোমধ্যেই একাধিক শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও পরিবার ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, রামপুর ভূঞা বাড়ি সড়ক এলাকার মাস্টার বাড়ির সামনের একটি পুকুর দীর্ঘদিন ধরে ময়লা-আবর্জনা ও আগাছায় ভরে আছে। জমে থাকা পানি থেকে ছড়াচ্ছে ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশা।
পুকুরটির পাশেই অবস্থিত রামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক তৌহিদুল ইসলাম তুহিন ও তার বোন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন।
এছাড়া পাশের মাওলানা ম্যানশনের চার বাসিন্দা এবং রফিক ম্যানশনের মোকসেদুর রহমানসহ একাধিক ব্যক্তি আক্রান্ত হওয়ার কথা নিশ্চিত করেছেন।
চট্টগ্রাম ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও চিকিৎসা নিয়েছেন এখানকার ভুক্তভোগীরা।
এমনকি ফেনী সদর উপজেলা সরকারি প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি নুর মোহাম্মদ রেদোয়ান ও বেশ কয়েকজন শিক্ষক সম্প্রতি ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সিসি ঢালাই ড্রেন দিয়ে পানি নিষ্কাশন হচ্ছে না।
বৃষ্টি না হলেও ড্রেন ভাঙা ও ময়লা জমে থাকার কারণে রামপুর ভূঞা বাড়ি সড়ক এবং রামপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন রাস্তায় দীর্ঘ সময় পানি আটকে থাকে।
কেরামত আলী জামে মসজিদ সংলগ্ন ভেঙে যাওয়া ড্রেন দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না করায় বাসাবাড়ির ময়লা পানি সরাসরি পুকুরে গিয়ে পড়ছে।
পৌরসভার পরিচ্ছন্নতা অভিযান নিয়ে সন্তুষ্ট নন স্থানীয় বাসিন্দারা।
তাদের মতে, ডেঙ্গু বিস্তার রোধে কার্যকর ওষুধ ছিটানো বা দৃশ্যমান পদক্ষেপ চোখে পড়ছে না।
প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির নেতারা জানিয়েছেন, পৌর এলাকার ২৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণ ও চারপাশ ডেঙ্গুর মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে।
দ্রত মশক নিধন জোরদার না করলে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মধ্যে এটি ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।
তবে ফেনী পৌর প্রশাসনের পক্ষ থেকে পৌর প্রশাসক মো. দিদারুল আলম জানান, ১৮টি ওয়ার্ডে মোট ৩৬ দিনের বিশেষ পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন কর্মসূচি চলমান রয়েছে এবং নিয়মিত মাইকিং করে সচেতনতা বৃদ্ধি করা হচ্ছে।
পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সামছুদ্দিন জানান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর অপরিচ্ছন্ন আঙ্গিনা পরিষ্কার রাখা জরুরি এবং এ বিষয়ে পৌরসভা বিশেষ নজরদারি রাখবে।
