মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) জোরপূর্বক পুশইন করা দুই নারীসহ তিন বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করা হয়েছে।
শনিবার সকালে স্থানীয়দের সহায়তায় আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরা তাদের আটক করে।
আটক ব্যক্তিরা হলেন—নড়াইল সদর উপজেলার সিঙ্গা শোলপুর গ্রামের রানা মোল্লা (২৪), তার স্ত্রী মাহমুদা আক্তার লিমা (২২) এবং খুলনা জেলার বেজেরডাঙ্গা গ্রামের ময়না খাতুন (২০)।
স্থানীয় ও আনসার সূত্রে জানা যায়, শ্রীমঙ্গল ব্যাটালিয়নের (৪৬ বিজিবি) আওতাধীন দেবলছড়া বিওপির সীমান্ত এলাকা দিয়ে শনিবার সকাল আনুমানিক ৭টা ৩৫ মিনিটে উপজেলার ৬ নম্বর আলীনগর ইউনিয়নের বকসিটিলা এলাকা দিয়ে বিএসএফ ওই তিনজনকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ঠেলে দেয়।
বিষয়টি দেখতে পেয়ে স্থানীয় জনতা তাদের ঘিরে রাখে। এর আগেও ওই এলাকা দিয়ে বিএসএফ পুশইন করেছে।
খবর পেয়ে উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা আবু শাহাদাৎ মোহাম্মদ এনামুল হকের নির্দেশনায় আনসার সদস্য রশিদ মিয়া, ৫ নম্বর কমলগঞ্জ ইউনিয়ন দলনেত্রী সুরজাহান বেগম এবং ৭ নম্বর ওয়ার্ডের দলনেতা জায়েদ আহমেদ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে নিরাপদ হেফাজতে নেন।
পরে পরিচয় শনাক্তকরণ ও আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে সকাল সোয়া ৯টায় তাদের কমলগঞ্জ থানায় সোপর্দ করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃতরা জানান, জীবিকার সন্ধানে প্রায় দুই মাস আগে সিলেট সীমান্ত দিয়ে তারা ভারতে গিয়েছিলেন।
শনিবার ভোর আনুমানিক ৫টা ৩০ মিনিটে বিএসএফ সদস্যরা তাদের চোখ বেঁধে বকসিটিলা সীমান্ত দিয়ে জোরপূর্বক বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ঠেলে দেয়।
সকাল সোয়া ৯টার দিকে তাদের কমলগঞ্জ থানার পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কমলগঞ্জ থানার ওসি কমর উদ্দিন রাতে বলেন, আটককৃতদের প্রাথমিক পরিচয় শনাক্ত করে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে তারা বাংলাদেশি নাগরিক।
কাজের তাগিদে কয়েক মাস আগে তারা অবৈধভাবে ভারতে গিয়েছিলেন।
ইতোমধ্যে তাদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে, পরিবারের লোকজন এলে আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।