
জুলাই অভ্যুত্থানে ‘বিতর্কিত কর্মকাণ্ড’ এবং শিক্ষার্থীদের ‘হুমকি’ দেওয়ার অভিযোগে চারজন এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অভিযোগের ভিত্তিতে একজনের বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।জুলাই অভ্যুত্থানে ‘বিতর্কিত কর্মকাণ্ড’ এবং শিক্ষার্থীদের ‘হুমকি’ দেওয়ার অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত এবং একজনকে সাময়িকভাবে একাডেমিক কার্যক্রম থেকে বিরত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট।
এছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গান গেয়ে আলোচিত আরেক শিক্ষককে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অভিযোগের ভিত্তিতে একাডেমিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
জুলাই অভ্যুত্থানের সময়ের ঘটনায় সাময়িক বরখাস্ত হয়েছেন লোক প্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক নাজমুল আহসান কলিম উল্লাহ, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আ ক ম জামাল উদ্দীন, ব্যাংকিং অ্যান্ড ইনস্যুরেন্স বিভাগের অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম।
উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ আজমল হোসেন ভূঁইয়াকে সাময়িকভাবে একাডেমিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
একই অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা লাভলু মোল্লা শিশিরকেও (মুহাম্মদ লাভলু মোল্লা) সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
এছাড়া, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক এরশাদ হালিমের বিরুদ্ধে ছাত্রদের যৌননিপীড়নের অভিযোগের ‘সত্যতা মেলায়’ তাকে চাকরিচ্যুত করার সুপারিশ করেছে তদন্ত কমিটি, যা সিন্ডিকেট সভার অনুমোদন পেয়েছে।
এ বিষয়ে অধ্যাপক আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী বলেন, “তার বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন দিয়েছে। সেখানে তাকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের সুপারিশ করা হয়েছে। এ সিদ্ধান্ত এখন ট্রাইবুন্যালে পাঠানো হয়েছে। সেখানে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হবে।”
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশাসনিক কাঠামোতে শৃঙ্খলাভঙ্গ, নীতিবিরোধী কাজ বা গুরুতর অভিযোগ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে এই ট্রাইবুন্যাল গঠিত হয়।
এছাড়া শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নানা অভিযোগের ভিত্তিতে একাডেমিক কাউন্সিলের সুপারিশ অনুয়ায়ী বাংলা বিভাগের শিক্ষক তাশরিক-ই-হাবিবকে একাডেমিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গান গেয়ে ভাইরাল হয়েছিলেন তিনি। এ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে সমালোচনা হয়েছিল।
সোমবার রারাতে সিন্ডিকেট সভায় এসব সিদ্ধান্ত হয়েছে জানিয়ে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “যে তিনজনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে জুলাই অভ্যুত্থানের নানা অভিযোগ ছিল। আর অধ্যাপক আজম সাহেবের বিরুদ্ধে জুলাই অভ্যুত্থানে শিক্ষার্থীদের হুমকি, নারী শিক্ষার্থীদের পোশাক নিয়ে অবমাননার অভিযোগে একাডেমিক কমিটি থেকে সুপারিশ আসে। তাই, তাকে একাডেমিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।”
এছাড়া ২০১৯ সালের ডাকসু নির্বাচনের সময় সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত গোলাম রব্বানীর ছাত্রত্ব না থাকায় তার ডাকসুর পদও বাতিল করার সিদ্ধান্ত আইন উপদেষ্টার কাছে পাঠানো হয়েছে বলে জানান উপ-উপাচার্য।
এর আগে গতবছরের নভেম্বরে ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর এমফিল প্রোগ্রামে ভর্তি যথাযথ প্রক্রিয়ায় না হওয়ায় তা বাতিল এবং একইসঙ্গে ২০১৯ সালের ডাকসু নির্বাচনে তার জিএস পদ অবৈধ ঘোষণার সুপারিশ করেছিল একাডেমিক কাউন্সিল।